টেকভিশন২৪ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের পরিধি সাধারণ চ্যাটবটের গণ্ডি পেরিয়ে এবার সরাসরি করপোরেট ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। লন্ডনে অনুষ্ঠিত মেটার বাৎসরিক ‘কনভারসেশনস’ ইভেন্টে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছেন ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ নামের একটি সর্বাধুনিক এআই টুল। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম এবং মেসেঞ্জার ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা তাদের দৈনন্দিন ও ব্যাক-এন্ডের জটিল সব কাজ সম্পূর্ণ এআই-এর ওপর ছেড়ে দিতে পারবেন।
মেটা জানিয়েছে, নতুন এই বিজনেস এজেন্টটি ক্রেতাদের সাথে চ্যাট করার পাশাপাশি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং বা শিডিউলিং করতে পারবে। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো—টুলটির মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেতাদের বিভিন্ন পণ্যের পরামর্শ দেওয়া এবং সরাসরি পণ্য বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন বা ‘ক্লোজ সেলস’ করার মতো অ্যাডভান্সড ক্ষমতা রয়েছে। তবে এআই কাজ করলেও ব্যবসার মূল মালিকেরা চাইলে যেকোনো মুহূর্তে সরাসরি কাস্টমার চ্যাটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারবেন।
এই প্রযুক্তিটি ইতিমধ্যে ভারত, মেক্সিকো এবং ব্রাজিলের বাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ওপর পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে এবং সেখানে ১ মিলিয়নেরও বেশি প্রতিষ্ঠান এই পাইলট প্রকল্পে অংশ নিয়েছে। সফল পরীক্ষা শেষে এবার এটি বিশ্বজুড়ে সব ধরনের ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।
এর আগেও মেটা ব্যবসায়িক পেজগুলোর জন্য স্বয়ংক্রিয় মেসেজ রিপ্লাই বা চ্যাটবটের সুবিধা দিলেও, এবারের উদ্যোগটি কেবল কাস্টমার কেয়ার চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মার্ক জাকারবার্গের দূরদর্শী পরিকল্পনা হলো—ভবিষ্যতে এই এআই এজেন্টগুলো মানুষের সাহায্য ছাড়াই একা একটি ‘পুরো ব্যবসা পরিচালনা’ করতে পারবে। তবে এই চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্য মেটার মূল এআই মডেলগুলোকে আরও অনেক বেশি উন্নত ও শক্তিশালী হতে হবে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
ব্যবসাকে পর্দার আড়ালে বা ব্যাক-এন্ডে সহায়তা করার জন্য মেটা এখন একগুচ্ছ ‘এজেন্টিক ক্যাপাবিলিটিজ’ বা স্বয়ংক্রিয় পরিচালনা ক্ষমতার ওপর কাজ করছে। এর সাহায্যে এআই নিজেই বাজার গবেষণা করা, পণ্যের অভ্যন্তরীণ ডেটা বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ক্যালেন্ডার ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিযোগীদের ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তা ও কৌশল অ্যানালাইসিস করার মতো জটিল করপোরেট কাজগুলো করতে পারবে।
এই অ্যাডভান্সড ফিচারগুলো এখন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত না হলেও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি বিশেষ ওয়েট লিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকা চালু করেছে মেটা। তবে এই মেগা এআই সুবিধার পেছনে মেটার একটি বড় বাণিজ্যিক চাল বা ক্যাচ রয়েছে।
শুরুতে এই ‘মেটা বিজনেস এজেন্ট’ সম্পূর্ণ ফ্রিতে বা বিনামূল্যে ব্যবহার করা গেলেও মেটা এটিকে স্থায়ীভাবে ফ্রি রাখবে না। প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই এআই এজেন্ট সার্ভিসটিকে তাদের নতুন প্রিমিয়াম বা পেইড সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজের আওতাভুক্ত করা হবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে মেটা শুধু তাদের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের আয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক বিটুবি সফটওয়্যার ও সার্ভিস বাজারে ওপেনএআই, গুগল এবং অ্যানথ্রোপিকের সাথে এক মহাসংগ্রামে লিপ্ত হতে যাচ্ছে।


