অটোমোবাইল প্রতিবেদক: বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজারে জাপানি ব্র্যান্ডের বাইক মানেই সর্বোচ্চ মানের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের এই বদ্ধমূল ধারণাটি মূলত জাপানি ব্র্যান্ডের বাইক সরাসরি জাপান থেকে আসে বলে বিশ্বাস করে। তবে বিশ্ব মোটরসাইকেল শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন; এখন কোনো ব্র্যান্ডের পরিচয় কেবল উৎপাদনের দেশ দিয়ে নির্ধারিত হয় না।
বর্তমানে হোন্ডা, ইয়ামাহা, সুজুকি ও কাওয়াসাকির মতো কোম্পানিগুলো জাপানি ব্র্যান্ড হলেও তাদের গবেষণা ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি জাপানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন খরচ ও স্থানীয় সুবিধার কথা মাথায় রেখে কোম্পানিগুলো ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো দেশে তাদের উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। ফলে বাংলাদেশের বাজারে জাপানি ব্র্যান্ডের যে বাইকগুলো পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই আসলে অন্য কোনো দেশে উৎপাদিত বা স্থানীয়ভাবে সংযোজিত।
বিজ্ঞাপনে যখন ‘জাপানি প্রযুক্তি’ বা ‘জাপানি ইঞ্জিনিয়ারিং’ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়, তখন গ্রাহকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা তৈরি হয় যে বাইকটি জাপানের তৈরি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জাপানি প্রযুক্তিতে তৈরি মানেই পণ্যটি জাপানের মাটিতে প্রস্তুতকৃত নয়।
একজন সচেতন গ্রাহক হিসেবে এখন কেবল ব্র্যান্ডের নামের ওপর নির্ভর না করে বাইকের প্রকৃত উৎপত্তিস্থল, মালিকানাধীন ব্র্যান্ড, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ফিচার, পারফরম্যান্স এবং সার্ভিস নেটওয়ার্ক যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তাই অন্ধভাবে নামের ওপর আস্থা না রেখে প্রযুক্তি ও মানের সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই সেরা বাইকটি বেছে নেওয়া উচিত।



