টেকভিশন২৪ ডেস্ক: প্রতিযোগিতা ছাড়াই ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম পেয়েছে গ্রামীণফোন (জিপি)। এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো কোনও মোবাইল অপারেটর এই লো-ব্যান্ড স্পেকট্রামের বরাদ্দ পেলো।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্পেকট্রাম নিলাম কমিটি ও স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠকে বুধবার (২২ জানুয়ারি) প্রতি মেগাহার্টজের ভিত্তিমূল্য ২৩৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করে এই বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়।
নিলামে গ্রামীণফোন ছিল একমাত্র দরদাতা। রবি আজিয়াটা আবেদন প্রত্যাহার করে নেয় এবং বাংলালিংক বর্তমান রিজার্ভ মূল্যকে বাণিজ্যিকভাবে অযৌক্তিক উল্লেখ করে নিলামে অংশ নেয়নি।
বিটিআরসির নিলাম নির্দেশিকা অনুযায়ী, একক দরদাতা সর্বোচ্চ ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অর্জনের যোগ্য- এই বিধানেই গ্রামীণফোন পুরো ১০ মেগাহার্টজ পায়।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে বড় গ্রাহকভিত্তি থাকা সত্ত্বেও ব্যবহারকারীপ্রতি স্পেকট্রামের পরিমাণে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে গ্রামীণফোন। সে কারণে ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডটি তাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
লো–ব্যান্ড স্পেকট্রাম নেটওয়ার্কের জট কমাতে, গ্রামীণ এলাকায় কাভারেজ বাড়াতে এবং ভবনের ভেতরে সিগন্যাল প্রবেশযোগ্যতা উন্নত করতে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। একই সঙ্গে বড় নেটওয়ার্কে ডেটা পরিবহনের খরচও তুলনামূলক কমে।
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় সব নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম অর্জনের যোগ্যতা নিশ্চিত করে বিটিআরসি থেকে স্বীকৃতিপত্র পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই বরাদ্দের ফলে সেবা-বঞ্চিত ও ইনডোর পরিবেশে কাভারেজ বাড়বে, নেটওয়ার্কের দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা উন্নত হবে এবং ৮ কোটি ৫৬ লাখের বেশি গ্রাহকের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল সেবা দেওয়া সহজ হবে।
অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী অপারেটর রবি আজিয়াটা ও বাংলালিংক আগেই বিটিআরসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে- বর্তমান ভিত্তিমূল্যে ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বাণিজ্যিকভাবে টেকসই নয়। পাশাপাশি, একক প্রভাবশালী অপারেটরের হাতে লো-ব্যান্ড স্পেকট্রাম বরাদ্দ দিলে মোবাইল টেলিযোগাযোগ বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।



