টেকভিশন২৪ ডেস্ক: একসময় ল্যাপটপে স্পর্শসংবেদনশীল বা টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির ধারণাকে সরাসরি নাকচ করে দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাচস্ক্রিন সুবিধাসংবলিত ল্যাপটপ বাজারে আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নতুন এই ডিভাইসটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ম্যাকবুক প্রো প্রোপ্লেড এক্সডিআর’। আইফোনের উদ্ভাবনী ফিচার ‘ডাইনামিক আইল্যান্ড’ এবং শক্তিশালী এম৫ সিরিজের প্রসেসর নিয়ে হাজির হওয়া এই ডিভাইসটি ল্যাপটপের বাজারে অ্যাপলের এক নতুন যুগের সূচনা করল।
পেশাদারদের নজর কেড়ে প্রযুক্তির রূপান্তর
উইন্ডোজচালিত বিভিন্ন পিসি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এক দশকেরও বেশি সময় ধরে টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ তৈরি করে আসলেও অ্যাপল শুরু থেকেই এই প্রযুক্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে পুরনো সেই প্রথা ভেঙে তারা অবশেষে বড় ধরনের পরিবর্তন আনল।
অ্যাপলের দাবি, টাচ লেয়ার বা স্পর্শসংবেদনশীল অংশটি আলাদা কোনো স্তর হিসেবে পর্দার ওপরে না বসিয়ে সরাসরি ডিসপ্লে প্যানেলের ভেতরে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এর রেসপন্স টাইম বা স্পর্শের সাড়া দেওয়ার গতি অত্যন্ত দ্রুত। বিশেষ করে গ্রাফিক ডিজাইনার, ছবি ও ভিডিও সম্পাদক, সংগীতশিল্পী এবং অ্যাপ প্রস্তুতকারকদের পেশাদার কাজ আরও সহজ করতেই এই বিশেষ স্পর্শপ্রযুক্তি নকশা করা হয়েছে।
ডিভাইসের খুঁটিনাটি ও দাম
আগামী ৬ নভেম্বর থেকে বাজারে পাওয়া যাবে নতুন এই ম্যাকবুক প্রোপ্লেড এক্সডিআর। ডিভাইসটি ১৪ ইঞ্চি ও ১৬ ইঞ্চি- এই দুই আকারে বাজারে ছাড়ছে অ্যাপল। গতি ও কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে শক্তিশালী এম৫ প্রো এবং এম৫ ম্যাক্স চিপসেট।
অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে ১৪ ইঞ্চি সংস্করণের প্রারম্ভিক মূল্য ধরা হয়েছে ২,৮৯৯ মার্কিন ডলার এবং ১৬ ইঞ্চি সংস্করণের দাম শুরু হচ্ছে ৩,৩৯৯ ডলার থেকে। এই ডিভাইসের মাধ্যমে আইফোনের পরিচিত ‘ডাইনামিক আইল্যান্ড’ নোচ প্রযুক্তি এই প্রথম ম্যাক সিরিজের পর্দায় যুক্ত হলো। নতুন এই টাচ প্রযুক্তি ব্যবহারে পুরোনো অ্যাপগুলো ব্যবহারে কোনো সমস্যা হবে না, কারণ এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনের স্পর্শকে মাউসের ক্লিকের মতো গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ফটোশপ বা ইলাস্ট্রেটরের মতো পেশাদার সফটওয়্যারে নিখুঁত রঙ ফুটিয়ে তুলতে এতে উন্নত কালার স্পেস যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে বড় রদবদল
অ্যাপলের শীর্ষ পদে রদবদলের পর নতুন প্রধান নির্বাহী হিসেবে জন টার্নাসের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দুই মাসের মধ্যে এটি অন্যতম বড় একটি ঘোষণা। অতীতে এই স্পর্শপ্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে ২০১৬ সালে ‘টাচ বার’ এনেছিল অ্যাপল, যা গ্রাহকদের কাছে তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল কিছুটা দেরিতে হলেও এই বাজারে প্রবেশ করায় বিশ্বব্যাপী ল্যাপটপ শিল্পে নতুন প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হবে।


