টেকভিশন২৪ ডেস্ক: এবার বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা। সামনের দিনগুলোয় পর্যায়ক্রমে ব্যাংকটির ঋণ, পে-লেটারসহ অন্যান্য সেবাও যুক্ত হবে বিকাশ অ্যাপে। সব ধরনের গ্রাহকদের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ আরও সহজ করতে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক এবং বিকাশ।
মূলত আর্থিক খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে, আরও বেশি সংখ্যক গ্রাহকের কাছে উন্নত সেবা পৌঁছে দিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে টেকসই করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সেবা নিজ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে বিকাশ। তারই ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো ট্রাস্ট ব্যাংকের বিভিন্ন সেবা।
রাজধানীর একটি হোটেলে “এক্সপান্ডিং অ্যাক্সেস, এম্পাওয়ারিং পসিবিলিটিজ” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই যৌথ যাত্রার ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই যৌথ সেবার উদ্বোধন করেন ট্রাস্ট ব্যাংক-এর ভাইস-চেয়ারম্যান এবং অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোঃ সিরাজুল ইসলাম ও আরিফ হোসেন খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আহসান জামান চৌধুরী এবং বিকাশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার কামাল কাদীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাঃ হোসাইন আল মোরশেদ বলেন, “প্রযুক্তি এখন আর্থিক লেনদেনের ধরণ বদলে দিয়েছে, এরপরও অনেকের জন্য প্রয়োজনের সময় সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই আমাদের আজকের এই যৌথ উদ্যোগ।”
তিনি আরও বলেন, “ট্রাস্ট ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ব্যাংকিং সেবা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে বিকাশ দেশের অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে সহজ করেছে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে আরও অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়া যাবে।”
বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিকাশ-এর অগ্রযাত্রা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে ত্বরান্বিত করেছে এবং তাদের সাথে ট্রাস্ট ব্যাংক-এর অংশীদারিত্ব এই অন্তর্ভুক্তিকে আরও জোরদার করবে বলেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা আশা করছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগে দুটো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের যৌথভাবে কাজ করাটা আশাব্যঞ্জক।”
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের ঋণ ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। ‘ন্যানো লোন’ অপ্রাতিষ্ঠানিক লোনের ধারণা থেকে এসেছে। মানুষের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রতিষ্ঠান দুটি যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার সফলতা কামনা করছি। অতিপ্রয়োজনীয় সেবা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”
ট্রাস্ট ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার আহসান জামান চৌধুরী বলেন, “এই অংশীদারিত্বের মূল ভাবনা ছিল সহজ। ট্রাস্ট ব্যাংকের আছে আস্থা, দীর্ঘ ব্যাংকিং এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা; এদিকে, বিকাশের আছে দেশব্যাপী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, এজেন্ট নেটওয়ার্ক এবং মানুষের আস্থা। এই আস্থার উপর ভর করেই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে ব্যাংকিং সেবা এখন প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এজেন্ট বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁর প্রয়োজনের সময় এখন বিকাশ অ্যাপ থেকেই ট্রাস্ট ব্যাংকের লোন নিতে পারবেন। পাশাপাশি, ডিপিএস, এফডিআর, পে-লেটার-এর সেবা গ্রাহকের লেনদেনকে সহজ করবে।”
এ সময় বিকাশ-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার কামাল কাদীর বলেন, “প্রযুক্তি আমাদের সঠিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করছে। ফলে, এখন যে কেউ ১০,০০০ টাকার এফডিআরও খুলতে পারছেন। এই ধরণের প্রযুক্তি বিভিন্ন বাধা দূর করে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সৃজনশীল, নিয়মসম্মত ও উপযুক্ত আর্থিক সেবা পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে। যখন সঠিক সুযোগ তৈরি হয়, তখন সবাই সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেন। তাই আজ আমরা মানুষের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত করে দিচ্ছি।”
ট্রাস্ট ব্যাংকের যে সেবাগুলো যুক্ত হচ্ছে বিকাশ অ্যাপে:
ডিপিএস: বিকাশ অ্যাপ থেকে এখন ট্রাস্ট ব্যাংক এর মাসিক ডিপিএস খুলতে পারছেন গ্রাহক। ৫০০ টাকা থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অংকের এবং মেয়াদের ডিপিএস খোলা যাচ্ছে।
এফডিআর: বিভিন্ন মেয়াদ এবং অংকের ফিক্সড ডিপোজিট সেবা চালু হবে শীঘ্রই।
এজেন্ট লোন: বিকাশ এজেন্টদের জন্য চালু হবে ট্রাস্ট ব্যাংকের লোন। এজেন্টরা তাৎক্ষণিক তাদের এজেন্ট অ্যাপ থেকেই জামানতবিহীন এই লোন নেয়া এবং পরিশোধের সুযোগ পাবেন।
গ্রাহক লোন: নির্বাচিত গ্রাহকরা বিকাশ অ্যাপ থেকেই জামানতবিহীন লোন নিতে পারবেন ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে।
পে লেটার: ট্রাস্ট ব্যাংকের ঋণ সেবার আওতায় বিকাশ অ্যাপে চালু হবে পেমেন্ট এবং মোবাইল রিচার্জ-এর জন্য পে-লেটার সেবা। উল্লেখ্য, পে-লেটার সেবার মাধ্যমে গ্রাহক তার ঋণসীমার মধ্যে কোনো পণ্য বা সেবা কিনে পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে তা ইন্টারেস্ট ছাড়া সম্পূর্ণ পরিশোধ অথবা সহজ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন।
রেমিটেন্স: প্রবাসী বাংলাদেশীদের রেমিটেন্স পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতেও একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার রয়েছে দুটি প্রতিষ্ঠানের।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বিকাশ-এর ৮ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক অ্যাপ থেকেই নিতে পারছেন ট্রাস্ট ব্যাংক সহ আরও ৫টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেভিংস ও লোন-এর মতো ব্যাংকিং সেবা। ২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস দিয়ে যাত্রা শুরু হয় বিকাশ-এর ডিজিটাল সেভিংস সেবা। পর্যায়ক্রমে এই সেবায় যুক্ত হয়েছে ঢাকা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।


