টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইএসপি) তাদের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্যাকেজের সঙ্গে ওভার-দ্য-টপ (ওটিটি) স্ট্রিম সার্ভিসসহ অন্যান্য ডিজিটাল সেবা বান্ডেল আকারে প্রদানের অনুমোদন দেওয়ার জন্য একটি সাধারণ নীতিগত কাঠামো (Regulatory Framework) তৈরি করছে।
উদ্যোগের পটভূমি ও বিটিআরসির অবস্থান
দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবাদাতা দুই প্রতিষ্ঠান—‘রেস অনলাইন লিমিটেড’ (Race Online) এবং ‘আইসিসি কমিউনিকেশন লিমিটেড’ (ICC Communication)—তাদের অনুমোদিত ইন্টারনেট ট্যারিফের সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করার অনুমতি চেয়ে বিটিআরসিতে আবেদন জমা দেয়। কমিশন এটিকে কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব হিসেবে না দেখে দেশের সকল লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইএসপির জন্য প্রযোজ্য এক সার্বিক নীতি হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী জানান, প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে গ্রাহকের সামনে নতুন সেবার সুযোগ এলে তা উন্মুক্ত করাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল লক্ষ্য। ওটিটি হচ্ছে তথ্য ও টেলিযোগাযোগের এক মিশ্র মাধ্যম, তাই বিদ্যমান কাঠামোর সুরক্ষা বজায় রেখে বিদ্যমান আইনি ও কারিগরি জটিলতাগুলো দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কমিটির পর্যালোচনা ও প্রস্তাবিত মডেল
প্রস্তাবনাটি মূল্যায়নের জন্য বিটিআরসি তাদের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স এবং লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সমন্বয়ে একটি আন্তঃবিভাগীয় কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক মডেল, কারিগরি পরিচালন ব্যবস্থা এবং রাজস্ব ভাগাভাগি (Revenue-sharing) পরীক্ষা করে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেবে।
যেমন, রেস অনলাইন তাদের “অরবিট ইন্টারনেট প্যাকেজ”-এর আওতায় ৫০০ টাকায় ২০ এমবিপিএস থেকে শুরু করে উচ্চগতির ইন্টারনেটের সঙ্গে টকটাইম, ই-হেলথ সুবিধা এবং চরকি ও বঙ্গ-এর মতো স্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বান্ডেল করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
দেশি বনাম বিদেশি ডিজিটাল সেবার শর্তাবলী
বর্তমানে মোবাইল অপারেটরগুলো নিয়মিত ইন্টারনেট প্যাকের সঙ্গে ওটিটি ও অন্যান্য কনটেন্ট অফার করে থাকে। আইএসপিগুলোকেও এই সুযোগ দিলে বাজারে সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ (Level Playing Field) সৃষ্টি হবে। তবে প্রস্তাবিত নীতিমালায় কিছু পার্থক্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:
- দেশীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম: অনুমোদিত সর্বোচ্চ ইন্টারনেট ট্যারিফ সীমার ভেতরেই দেশীয় ওটিটি সার্ভিস যুক্ত করতে পারবে আইএসপিগুলো। তবে প্যাকেজের নাম, সেবার ধরন ও শর্তাবলী পূর্বেই বিটিআরসিকে জানাতে হবে।
- বিদেশি ওটিটি ও সেবা: যেকোনো বিদেশি ওটিটি বা ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য বিটিআরসির পৃথক অনুমোদন লাগবে। অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশে নিবন্ধনের অবস্থা, কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা, বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন এবং তথ্য সুরক্ষা নীতি পরীক্ষা করা হবে।
- সামাজিক ও ডিজিটাল পরিষেবা: ই-হেলথ, ই-এডুকেশন কিংবা ই-এগ্রিকালচারের মতো সেবার ক্ষেত্রে আলাদা অনুমোদন নিতে হবে, যেখানে সেবার মান ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে।
চূড়ান্ত অনুমোদিত ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, স্ট্রিম করা বা পরিবেশিত কনটেন্টের স্বত্ব, কপিরাইট আইন ও লাইসেন্সিং সংক্রান্ত সব দায়ভার সংশ্লিষ্ট ওটিটি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রদানকারীর ওপরই বর্তাবে।



