টেকভিশন২৪ ডেস্ক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চলমান ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোর তৃতীয় দিনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার বিকেল থেকে মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাপক জনসমাগম হয়। মেলায় ঘুরতে আসার পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাওয়ায় অনেক দর্শকই কেনাকাটায় আগ্রহ দেখান।
মেলায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন কেরাণীগঞ্জের ফ্রিল্যান্স গ্রাফিক ডিজাইনার ফজলুল করিম। স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ মেলায় এসে তিনি বলেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর উদ্দেশ্যেই তার মেলায় আসা। তবে বিভিন্ন অফার ও তুলনামূলক কম দামের কারণে হেডফোনসহ কিছু গ্যাজেট কেনার কথাও ভাবছেন তিনি। মেলার সামগ্রিক আয়োজন তার ভালো লেগেছে বলে জানান।
মেলায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা দুই ছাত্রী রামিসা ও রাবিয়া জানান, তারা একটি মোবাইল ফোন ও একটি এয়ার ফ্রায়ার কিনেছেন। এই প্রথম মেলায় এসে রাবিয়ার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো হয়েছে। মেলার ডেকোরেশন তার পছন্দ হয়েছে। রামিসার মতে, মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন ইনোভেটিভ ডিজাইন আকর্ষণীয়, আর পণ্যের দামও তুলনামূলক স্বাভাবিক।
নির্ঝর ক্যান্ট পাবলিক স্কুলের শিক্ষক কাজী মুনসুর আখতার বলেন, একই জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য দেখার সুযোগ থাকায় পছন্দ অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়া সহজ হয়েছে। পাশাপাশি ইনোভেটিভ জোনে প্রদর্শিত এয়ার পিউরিফায়ারের কনসেপ্টটি তার কাছে বেশ ভালো লেগেছে।
আগারগাঁও থেকে আসা কৃষিবিদ তৌহিদুজ্জামান জানান, মেলার সার্বিক আয়োজন তাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে ইনোভেটিভ জোনে প্রদর্শিত মাটি পরীক্ষা করার রোবটটিকে তিনি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে দেখছেন।
দর্শনার্থীদের পাশাপাশি বিক্রেতাদের মধ্যেও সন্তুষ্টি দেখা গেছে। মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান টেকটাইমের পরিচালক নূরনবী কবির বলেন, প্রত্যাশার চেয়েও ভালো সাড়া পেয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠান। প্রথমবার অংশগ্রহণ করেও ভালো ব্র্যান্ডিং হয়েছে। এয়ারবাড, পাওয়ার ব্যাংক, স্মার্ট ওয়াচ ও স্পিকারসহ বিভিন্ন গ্যাজেট ভালো বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
গ্লোবাল ব্র্যান্ডের ডিজিটাল মার্কেটিং ম্যানেজার মোস্তফা শওকত ইরফান বলেন, মেলায় ১১টি স্টলে তাদের ১৫টি ব্র্যান্ড উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দুই দিন তুলনামূলক কম সাড়া পেলেও তৃতীয় দিনে দর্শক সমাগম ও বিক্রি দুটিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মেলার মাধ্যমে টার্গেট কাস্টমারের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
কম্পিউটার সিটি টেকনোলজিস লিমিটেডের এসার গ্যাজেট বিভাগের প্রোডাক্ট ম্যানেজার আব্দুস সালাম খান জানান, ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল পণ্যগুলো দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করা। সেই লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে। পাশাপাশি কিছু গ্যাজেট বিক্রিও হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, দর্শক ও ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপো প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী ধারণা ও সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যের সমন্বয়ে এই মেলা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি সচেতনতা ও বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।



