টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নির্মাণ এবং টেলিকম, ডাটা ও সাইবার সিকিউরিটি বিল ২০২৬ নিয়ে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের স্টেকহোল্ডার সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন—নীতিমালায় ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এবং ডাটা সুরক্ষায় দুর্বলতা থাকলে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশ আইসিটি স্টেকহোল্ডারস অ্যালায়েন্স (বিসা) আয়োজিত এ সংলাপ রাজধানীর বনানী ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ফয়সাল আলিম-এর সভাপতিত্বে এবং উপদেষ্টা মোঃ শামীম আজাদ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আব্দুল মইন খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জহির উদ্দিন স্বপন, মোঃ আব্দুস সালাম, আবু আবদুল্লাহ এম. সালেহ, এইচএম সাইফ আলী খান এবং বিসা-এর ফাউন্ডার ও উপদেষ্টা প্রকৌশলী মো. জুয়েল। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম।
ইভেন্ট কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিসা-এর এডিশনাল জেনারেল সেক্রেটারি নোমান হায়দার।
সংলাপে বক্তব্য রাখেন বিসা’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাক্কোর পরিচালক সায়মা শওকত, ফেলিসিটি আইডিসির সিইও শারফুল আলম, চালডালের জিয়া আশরাফসহ প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা। সংলাপে সরকারের নীতিনির্ধারক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা এবং শিল্প সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে বক্তাদের মূল পর্যবেক্ষণ:
ডাটা প্রাইভেসি নিশ্চিত না হলে ডিজিটাল বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে
অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও অস্পষ্ট নীতিমালা স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত করবে
নীতিমালা প্রণয়নে বাস্তবতা বিবেচনা না করলে তা কার্যকর হবে না
প্রধান অতিথি ড. আব্দুল মইন খান বলেন, “ডিজিটাল খাতকে শক্তিশালী করতে হলে নীতিমালাকে হতে হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বাস্তবসম্মত—অন্যথায় এটি উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।”
বিশেষ অতিথি জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সংলাপ থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ:
ডাটা সুরক্ষা আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে
টেলিকম ও সাইবার আইনে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
নীতি প্রণয়নের আগে স্টেকহোল্ডারদের বাধ্যতামূলক পরামর্শ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে
আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ডাটা সুরক্ষা, সাইবার ঝুঁকি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর জটিলতা নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত বিলসমূহ ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা একমত হন:
“সঠিক নীতি হলে বাংলাদেশ ডিজিটাল অর্থনীতিতে এগিয়ে যাবে, ভুল নীতি হলে পুরো ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তারা দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক, বাস্তবভিত্তিক এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান।



