টেকভিশন২৪ ডেস্ক: দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি—দুই খাতেই বড় ধরনের দুর্বলতা বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত তথ্যের বড় অংশ বেসরকারি খাতে সংরক্ষিত থাকায় শুধু সরকারি খাত সুরক্ষিত করলেই নাগরিক নিরাপদ থাকবে না।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর গুলশান লেকশোর হোটেলে ইউনেস্কো, দৃক ও নাগরিক কোয়ালিশনের যৌথ উদ্যোগে ‘’মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ডায়ালগ অন সাইবার সিকিউরিটি লেজিসলেশন, ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম গভর্ন্যান্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংলাপে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নাগরিক নিরাপত্তা ও সাইবার আইন প্রণয়ন নিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ গোলটেবিল সংলাপে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, মানবাধিকার কর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
এ সময় রেহান আসিফ আসাদ জানান, দেশের সাইবার জগতের মোট ট্রাফিকের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বট বা কৃত্রিম কার্যকলাপ। ফলে অনলাইন প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য বিশ্লেষণে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. জন বারাতা জোর দিয়ে বলেন, অনলাইন ও অফলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ডে আইন প্রয়োগ করতে হবে। অস্পষ্ট সংজ্ঞা যেমন ‘গুজব’ বা ‘অসত্য তথ্য প্রচার’ আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক করে তুলতে পারে।
ইউনেস্কোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সমাজ সুরক্ষার জন্য কিছু সীমা থাকা প্রয়োজন। তবে এসব সীমা যেন অধিকার খর্ব না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, গত বছরে প্রায় ২৭ হাজার পোস্ট বা লিংক অপসারণের অনুরোধ করা হলেও মাত্র ৬৩ শতাংশ কার্যকর হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীনতাও অনলাইন সহিংসতা ও প্রতারণা বাড়াতে পারে।
আলোচনায় আরো উঠে আসে ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার, সাইবার বুলিং, নারীদের প্রাইভেসি লঙ্ঘন, এবং ব্যক্তিগত মানহানির মতো ইস্যু। বক্তারা বলেন, একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর আইন কাঠামো প্রয়োজন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মত দেন, আইন যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয় এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া জরুরি।
সংলাপে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম, ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন, নাগরিক কোয়ালিশনের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রিয়া আহসান চৌধুরী, সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ আরো অনেকে।



