টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে মেমোরি চিপ বা র্যামের চলমান সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই ঘাটতি বজায় থাকতে পারে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় ইতোমধ্যেই কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে।
নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর ১২ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি প্রয়োজন হলেও বর্তমানে হচ্ছে মাত্র ৭.৫ শতাংশ। ফলে বাজারে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যবধান রয়ে গেছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে বিদ্যুৎ ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়াই এই সংকটের প্রধান কারণ।
এই সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যেই ভোক্তা পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। মাইক্রোসফট তাদের ‘সারফেস’ সিরিজের পণ্যের দাম ৫০০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে। একইভাবে মেটা তাদের ‘কুয়েস্ট-৩’ ভিআর হেডসেটের দাম ১০০ ডলার এবং রাস্পবেরি পাই তাদের পণ্যের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, র্যামের দাম না কমলে স্মার্টফোন ও পিসির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিশ্বের বৃহত্তম র্যাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্যামসাং দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংটেকে বিশাল উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করলেও আগামী বছরের আগে সেখানে পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন শুরু হওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া সেখানে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আইনি জটিলতাও উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের বিশ্লেষক এমএস হং জানান, র্যামের বাজারের এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ২০২৮ সালের আগে পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।



