টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী দেশের সাইবার সুরক্ষা জোরদারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, দেশীয় ইন্টারনেট সেবাদাতারা পর্নোগ্রাফি বা জুয়ার সাইট বন্ধ করতে পারলেও নারীবিদ্বেষ, ঘৃণামূলক বক্তব্য, প্রতারণা ও স্ক্যামের মতো অনৈতিক কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবে হিমশিম খাচ্ছেন।
বুধবার (৬ মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে সাইবার নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এ অবস্থায় ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স-এর মতো বৃহৎ প্ল্যাটফর্মগুলোর বাংলাদেশে স্থানীয় আইনি প্রতিনিধি রাখা জরুরি বলে মত দেন বিটিআরসি প্রধান। পাশাপাশি বিদ্যমান আইনি জটিলতা দূর করা, অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কনটেন্ট আলাদাভাবে চিহ্নিত করার প্রস্তাবও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট মডারেশনের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এমদাদ উল বারী জানান, বিটিআরসি সরাসরি কোনো কনটেন্ট ক্ষতিকর বলে নির্ধারণ করে না; বরং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনুরোধের ভিত্তিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দেয়। গত এক বছরে ৫৭ হাজার কনটেন্ট সরানোর অনুরোধের মধ্যে ৬৩ শতাংশ সফল হয়েছে। বাকি ৩৭ শতাংশ ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা গেছে।
তিনি আরও জানান, আত্মহত্যা বা শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে প্ল্যাটফর্মগুলো শতভাগ সহযোগিতা করলেও ভুল তথ্য বা ঘৃণা ছড়ানোর ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ৫৬ শতাংশ।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা নতুন সাইবার নিরাপত্তা আইনে জরুরি প্রয়োজনে তিন দিনের মধ্যে বিচারিক অনুমোদন নেওয়ার বিধানটি কারিগরি জটিলতা তৈরি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কাজের পরিধি ও সমন্বয়ের ঘাটতি এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর সঠিক মাধ্যম সম্পর্কে সচেতনতার অভাবকে এসব জটিলতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
দৃক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলমের সভাপতিত্বে এই বহুপক্ষীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ, সুইডেন দূতাবাসের পলিটিক্যাল সেক্রেটারি পাউলো ক্যাসট্রো নেইডারস্ট্রম, ভয়েস ফর রিফর্ম সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, বিজিডি ই-গভ সার্ট প্রকল্প পরিচালক মো. নাজমুল হক খন্দকার, কনসালটেন্ট তানিমুল বারী, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের কান্ট্রি হেড ফওজিয়া আফরোজ, পিআইবি মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, ইউএনডিপি’র সিনিয়র গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট শীলা তাসনিম হক ও গুম কমিশনের সাবেক সদস্য নাবিলা ইদ্রিস প্রমুখ।




