টেকভিশন২৪ ডেস্ক: প্রযুক্তি খাতে নকিয়া এখন অনেকটাই বিলীন। একসময় সেলফোনের বাজারে কোম্পানিটি পরিচিত থাকলেও বর্তমানে ফিচার ফোনেই সীমিত রয়েছে। কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে ফিনল্যান্ডের এ কোম্পানি। সম্প্রতি কুপারটিনোর প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে পেটেন্ট লাইসেন্স চুক্তি করেছে নকিয়া। এর অংশ হিসেবে নকিয়ার বেশকিছু পেটেন্ট ব্যবহার করতে পারবে অ্যাপল। সম্প্রতি এক ঘোষণায় নকিয়া এ কথা জানায়। খবর গিজমোচায়না।
দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট এর আগেও লাইসেন্স-সংক্রান্ত চুক্তি করেছিল, যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে এবং আগেরটির জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হবে বলে সূত্রে জানা গেছে। চুক্তিতে কোন বিষয় রয়েছে বা কোনো শর্ত আছে কিনা সে বিষয়ে নকিয়া বা অ্যাপলের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তবে অ্যাপলের কাছ থেকে পেমেন্ট পাবে নকিয়া। প্রযুক্তিগত উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের বাজারে নকিয়া সে রকম প্রভাবশালী কোনো কোম্পানি না হলেও প্রযুক্তিগত দিক থেকে কোম্পানিটি বেশ এগিয়ে। নকিয়ার ডিভাইস বাজারজাতে কাজ করছে এইচএমডি গ্লোবাল। তবে এর পরও স্মার্টফোনের বাজারে নকিয়া সেভাবে জায়গা করে নিতে পারছে না। উদ্ভাবনী সব প্রযুক্তি ও পেটেন্ট থেকেই কোম্পানিটি আয় করে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নকিয়ার ২০ হাজারের বেশি পেটেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ হাজারই ফাইভজি প্রযুক্তি সম্পর্কিত।
ফিনল্যান্ডের টেলিকম কোম্পানিটি বর্তমানে ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও বৈষম্যহীনভাবে এর পেটেন্ট অফার করছে, কেননা এগুলোর অধিকাংশই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিভিন্ন কোম্পানি যুক্তিসংগত মূল্যে নকিয়ার প্রযুক্তি ব্যবহারের লাইসেন্স করতে পারে। এসব কোম্পানির মধ্যে অ্যাপল অন্যতম। তবে আগে এ চুক্তির ধরন বা কার্যক্রম অন্য রকম ছিল।
২০১৭ সালে কয়েক মাস ধরে চলমান উত্তপ্ত আইনি লড়াই শেষে প্রযুক্তি কোম্পানি দুটি একটি পেটেন্ট লাইসেন্সিং চুক্তি করে। ২০২৩ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে এমন শর্তে সে লড়াই শেষ হয়। কোম্পানি দুটি বিবৃতিতে জানায়, সৌভাগ্যবশত বর্তমানে আমরা নতুন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছি না। কেননা দুই কোম্পানিই স্বচ্ছভাবে কাজের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে আয় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় হয়তো নকিয়া চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে। বর্তমানে অ্যাপলের অধিকাংশ পণ্য ফাইভজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তাই কোম্পানিটির জন্য চুক্তি টিকিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

