শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬
27 C
Dhaka

অনলাইন ওয়েবিনারে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে “ভোক্তা অধিকার বিভাগ” চায় ক্যাব

spot_img

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য ভোক্তা অধিদপ্তর যথেষ্ট নয়, ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ চায় কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। 

সোমবার দুপুর ১২টায় ‘অতিমুনাফা ও প্রতারণার শিকার ভোক্তারা: আইন মানার তোয়াক্কাই নেই’ শীর্ষক এক অনলাইন ওয়েবিনারে এ দাবি করা হয়।

ক্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাঠামো অনুযায়ী ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। ভোক্তা অধিদপ্তরও যথেষ্ট নয়। এর জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় প্রয়োজন। তবে আপাতত ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ জরুরি। দাবি না মানলে আন্দোলনে যাবারও হুশিয়ারি দেয়া হয়।

ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন ক্যাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু।

ক্যাব এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম সামসুল আলম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে আসছি, হয়তো আমাদের আন্দোলনের পর্যায়ে যেতে হবে। আমরা ভোক্তা অধিকার মন্ত্রণালয় চাচ্ছিলাম। ভোক্তা অধিদপ্তর ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে যথেষ্ট নয়, অন্তত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে আপাতত ‘ভোক্তা অধিকার বিভাগ’ চাই। নিশ্চিতভাবে ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য সরকারের পলিসি বিভাগ উদ্যোগ নিবে এবং সরকারের যথাযথ প্রশাসন, তার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, এখন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ছাড়া আর কোথাও ভোক্তাদের যাবার জায়গা নেই। আমরাও কোন জায়গায় কোন কিছু বলে সুবিধা করতে পারছি না। আজকের এই সেমিনারের মাধ্যমে সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষনের জন্য কেবলমাত্র ভোক্তা অধিদপ্তরই যথেষ্ট নয়, ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় বিভাগ চাই।

ভোক্তা অধিকার

সিমেনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাব এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের অসাধু তৎপরতা অপতৎপরতা ঠেকাতে ভোক্তা সংরক্ষন অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশনের বাজার অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধের জন্য আদায় করা হচ্ছে জরিমানা, করা হচ্ছে সতর্ক। কিন্তু তারপরও অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা বন্ধ হচ্ছে না।

সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অসাধু ব্যবসায়ীদের ভিত এতই শক্তিশালী যে সরকারী প্রশাসন যন্ত্র মনে হয় তাদের কাছে অসহায়, এরা টাকার জোরে সরকারি আমলা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিভিন্ন মিডিয়াকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেন। বরং এরকম জলজ্যান্ত মানুষ মেরে কোটিপতি হবার লোকের সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ইতিপুর্বে একই কায়দায় গুড়োদুধে ময়দা মিশ্রিত করার হোতাসহ চিনি, সয়াবিন, চাল, পেয়াঁজ কেলেংকারী হোতাদের কোন শাস্তি হয়নি। তারা পর্দার আডালে আবার রেহাই পেয়ে যায়। আর সাধারন ভোক্তা হিসাবে জনগন অসচেতন ও অসংগঠিত, ভোক্তার অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা, ভোক্তা সংগঠনগুলিকে সরকারি উপেক্ষার কারনে প্রকারান্তরে বাংলাদেশকে ভেজাল ও নিন্মমানের খাদ্যের বাজার ও পরীক্ষাগারে পরিণত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ফলে মানুষ যা আয় রোজগার করছে তার সিংহভাগই ঔষধ ও চিকিৎসার খরচ যোগাতে চলে যাচ্ছে। সরকার ও বহু জাতিক দাতা সংস্থা গুলি ব্যবসায়ী ও চেম্বারগুলিকে নানা সুবিধা দিলেও ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে দেশে ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে ও ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা ব্যবসায় সুস্থ ধারা বিকাশে বিশাল প্রতিবন্ধক।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা শুধুমাত্র একটি অর্থ উপার্জনের উপায় নয়, এটা একটি সেবাও বটে। যার মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী ভোক্তাকে খাদ্য-পণ্য ও সেবা সার্ভিস দিয়ে সেবাও করছেন। পণ্যের মূল্য ঘষামাজা করে অতিমুনাফা আদায়ে সচেষ্ঠ হওয়াকে ব্যবসা বলা যাবে না। এটা প্রতারনা আর এই প্রতারনা ফৌজদারী অপরাধও বটে। তবে আইন দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সব সময় সম্ভব না ও হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন অতিমুনাফালোভী, প্রতারক, মজুতকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সামাজিক ভাবে বয়কট করা। তাহলেই হয়তো ব্যবসা-বানিজ্যে জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।

দেশে এমন কোন খাত নেই যেখানে অসাধু ব্যবসায়ীরা মাথা চারা দেয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে ড. এম সামসুল আলম আরও বলেন, আমরা ভোক্তারা অনেকটা বন্দী হয়ে গেছি। এই বন্দি দশা থেকে মুক্তি দেবার জন্য দেশের আইন, সরকারি প্রতিষ্ঠান কেউ-ই সফল নন।

ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, আপনারা জেলায় জেলায় অন্তত একটা করে ঘটনা চিহ্নিত করুন। যাতে এসব ঘটনাকে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনের আওতায় এনে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায়। ভোক্তা অধিদপ্তরের হয়তো এখনও মামলা করার অধিকার নেই। তবে এই আইন করা হচ্ছে। কিন্ত একমাত্র সংগঠন ক্যাব, যাকে মামলা করার অধিকার দেয়া হয়েছে।  আমরা প্রয়োজনে প্রমাণ সহ এসব ভোক্তা স্বার্থ বিরোধী ঘটনায় আদালতে যাব।

সেমিনারে ভোক্তাকণ্ঠের সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, আমাদের দেশে দুটি সময়কে অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজির মহা উৎসব হিসেবে নেয়। এর মধ্যে রমজানের ঈদ এবং বাজেটকে সামনে রেখে দাম বৃদ্ধির কারসাজি শুরু করে ব্যবসায়ীরা। এবছর ঈদ এবং বাজেট কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগে থেকেই বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজেটকে সামনে রেখে আরেক দফা বাড়ানোর পায়তারা করছে।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্যাব এর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া।

এই সপ্তাহের জনপ্রিয়

দেশের প্রথম ব্রডব্যান্ড এক্সপো উদ্বোধন

টেকভিশন২৪ ডেস্ক:  প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ বলেছেন, আগামী...

ঢাকায় দেশের প্রথম “ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬” সোমবার থেকে শুরু

টেকভিশন২৪ প্রতিবেদক: আগামী ১৩ এপ্রিল, সোমবার থেকে থেকে ঢাকার...

যেভাবে ‘ফুয়েল পাস’-এর আবেদন করবেন

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: জ্বালানি তেলের বাড়তি চাপ কমানোর জন্য ফিলিং...

ট্রেন-বাস ও ফেরিতে আসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: ট্রেনে যাত্রার সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ও...

হাইকোর্টের নির্দেশনায় ওয়ালটন হাই-টেক ও ডিজি-টেক একীভূতকরণ; ২১ মে ইজিএম

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ...

সর্বশেষ

দক্ষিণ আফ্রিকায় সমাবর্তন বক্তা হলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর সোবহানী

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার খ্যাতনামা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সল প্লাকি...

দেশের প্রথম ব্রডব্যান্ড এক্সপোতে ইউআইটিএসের উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (UITS)...

স্যামসাং মোবাইলের অনুমোদিত পরিবেশক হলো এসইবিএল

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: স্যামসাং বাংলাদেশের জাতীয় পরিবেশক হিসেবে যুক্ত হয়েছে...

ট্রেন-বাস ও ফেরিতে আসছে স্টারলিংক ইন্টারনেট

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: ট্রেনে যাত্রার সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ও...

রমণীর সাথে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: নারীদের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এবং তাদের...

একই সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় ক্যাটাগরি