টেকভিশন২৪ ডেস্ক: দেশের যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রচলিত পুরনো আইন বদলে জুয়া প্রতিরোধে সংসদে নতুন বিল আনা হয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইনে জুয়া এবং বেটিংয়ের (বাজি) প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামক নতুন এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিলটি অধিকতর পরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন পরিবর্তনের কারণ ও বিদ্যমান ঝুঁকি
বিল উত্থাপনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ১৮৬৭ সালের প্রাচীন ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বর্তমান যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া এবং ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধে একেবারেই অপর্যাপ্ত।
বর্তমানে ভিপিএন, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অপব্যবহার করে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মগুলো পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থ পাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিশেষ করে তরুণসমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অপরাধ ও শাস্তির বিধান
নতুন এই বিলে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের অপরাধের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এবং অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী ১৪ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে।
পুরনো আইনটি পুরোপুরি রহিত করে আধুনিক ও কঠোর এই ‘জুয়া প্রতিরোধ’ আইন পাস হলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


