টেকভিশন২৪ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে সরকার তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে- সর্বজনীন কানেক্টিভিটি নিশ্চিতকরণ, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, টেলিযোগাযোগ খাতে অ্যাক্টিভ শেয়ারিং বাস্তবায়নে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
ঢাকায় তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ব্রডব্যান্ড এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিটিআরসি অ্য্যাক্টিভ শেয়ারিংয়ের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল খাতে যে উদ্দিপনামূলক ট্যাক্স কাঠামো থাকা দরকার তা নেই। বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য এটা জরুরি। তিনি আইএসপি খাতে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে সরকার এবং বিটিআরসির প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, এফটিএসপি (ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার নামটা বদলে আগের ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার নামটা বহাল করা হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) ব্যবহারের পলিসি রিভিউ করা হবে। অ্যাক্টিভ শেয়ারিংয়ের বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক কিছু করা হব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, আইএসপি লাইসেন্স নবায়ন, অ্যাক্টিভ শেয়ারিং বিষয়ে যেসব সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
আইএসপিএবি সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম বলেন, আইএসপি এই খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। আইএসপি নেটওয়ার্কের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার করা হয়। বাকিটা অব্যবহৃত থাকে। অ্যাক্টিভ শেয়ারিং থাকলে অব্যবহৃত নেটওয়ার্কের পরিমাণ অনেকাংশে কমে আসবে।
দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের হার প্রায় ১৫ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা, নীতি সহায়তা পেলে আগামী ৫ বছরে এই হার ৫০ শতাংশ করা সম্ভব। তিনি বলেন, সারা দেশে এক দেশ এক রেট বাস্তবায়ন করতে হলে ট্রান্সমিশন রেটও সারাদেশে এক হতে হবে।
সূচনা বক্তব্যে আইএসপিএবির মহাসচিব নাজমুল করিম ভূইঞা লাইসেন্স নবায়নসহ বিরাজমান সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলেন এবং খাত সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সরকারের কাছে দাবি জানান।
দেশের ব্রডব্যান্ড খাতের উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছে ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘লিংকিং পিপল, লিংকিং ফিউচার’।
এই এক্সপোতে ব্রডব্যান্ড ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং নেটওয়ার্কভিত্তিক পণ্য প্রদর্শন করছে। এবারের আয়োজনে রয়েছে ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ২০টি স্টল।
এক্সপোর বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত রোবটিকস, আইওটি-সহ প্রায় ২৫টি প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে। দর্শনার্থীরা এসব উদ্ভাবন সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকরা আশা করছেন, ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৫ এপ্রিল এক্সপোর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। ব্রডব্যান্ড এক্সপো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে।
ব্রডব্যান্ড এক্সপো-২০২৬ -এর প্লাটিনাম স্পন্সর ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেড ও সামিট কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। ডায়মন্ড স্পন্সর আম্বার আইটি লিমিটেড, সি-ডাটা, ওএফএস ক্যাবলস এবং রেস অনলাইন লিমিটেড। গোল্ড স্পন্সর কেএস নেটওয়ার্ক লিমিটেড, সার্কেল নেটওয়ার্ক, এডিএন টেলিকম লিমিটেড, প্লেক্সাস ক্লাউড লিমিটেড, একসেল টেকনোলজিস লিমিটেড, ডট ইন্টারনেট, লিংক থ্রি কমিউনিকেশন্স লিমিটেড, এআরএ টেকনোলজিস লিমিটেড, জিএএমএমএ ইনোভেশন লিমিটেড, মায়েস্ত্রো টেকনোলজিস লিমিটেড, ইন্টারক্লাউড লিমিটেড, সাউথ বাংলা লিমিটেড, এক্সাবাইট লিমিটেড এবং জিনিউ বাংলাদেশ লিমিটেড।


