টেকভিশন২৪ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সাত দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসব পরিকল্পনায় সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করা, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ডিজিটাল সেবা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
রাজধানীর বনানী ক্লাবে গত শনিবার জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম আয়োজিত ‘আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি সেক্টরের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বিএনপির লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান। আরও বক্তব্য দেন দলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান এপোলো। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন একাডেমিক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
নাগরিক সেবায় স্মার্ট প্রযুক্তি
বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, এআইভিত্তিক স্বাস্থ্য রেকর্ড, কানেক্টেড স্কুল, স্মার্ট লার্নিং সিস্টেম এবং দ্রুত জরুরি স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশি সেবা, ইমিগ্রেশন, ভূমি ও কর ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি প্রযুক্তি
দেশের সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও বিপিও খাতকে শক্তিশালী করতে ‘মেইড বা অ্যাসেম্বলড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্যের প্রতিযোগিতা বাড়ানো।
১০ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্য
সাইবার নিরাপত্তা, এআই, বিপিও, সেমিকন্ডাক্টর ও ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ খাতে সরাসরি দুই লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে আরও আট লাখ কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
ডিজিটাল পেমেন্ট ও ই-ওয়ালেট
ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিকর্মীদের সুবিধায় পেপালসহ একটি জাতীয় ই-ওয়ালেট চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে ডিজিটাল লেনদেন সহজ ও নিরাপদ হবে বলে জানানো হয়।
সবার জন্য ইন্টারনেট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, সরকারি অফিস, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও জনবহুল এলাকায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিএনপি।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার
নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষা এবং জাতীয় ডিজিটাল অবকাঠামো রক্ষায় আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়।
এআইচালিত ডেটা সেন্টার
মাহদী আমিন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁস জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে টিয়ার-৩ ও টিয়ার-৪ মানের একাধিক ডেটা সেন্টার এবং দেশের প্রথম এআইচালিত ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।



