টেকভিশন২৪ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী অভূতপূর্ব প্রসারের ফলে ডাটা সেন্টার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপের চাহিদা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। গুগল, মেটা, এডাব্লিউএস ও টেসলার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি জায়ান্টরা বিপুল পরিমাণে মেমোরি চিপ কিনে নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে তীব্র সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ ক্রেতাদের তুলনায় বেশি দাম দেওয়া করপোরেট গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের কম্পিউটার যন্ত্রাংশের বাজারে।
র্যাম, এসএসডি, প্রসেসর ও গ্রাফিকস কার্ডের দাম অভূতপূর্ব হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নতুন পণ্য কিনতে না পেরে ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন্ড যন্ত্রাংশের দিকে ঝুঁকছেন।
কয়েক গুণ বেড়েছে খুচরা মূল্য
রাজধানীর মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারসহ প্রধান প্রযুক্তি বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের যন্ত্রাংশের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। পূর্বে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় পাওয়া ৮ জিবি ডিডিআর৪ র্যাম এখন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭ হাজার থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকায়। ১৬ জিবি ডিডিআর৫ র্যামের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ থেকে ৩৪ হাজার টাকায়।
একইভাবে ১২৮ জিবি এনভিএমই বা সাটা এসএসডি, যা আগে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায়। ৫১২ জিবি এসএসডির দাম ৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকায় ঠেকেছে। গ্রাফিকস কার্ডের দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ এবং মাদারবোর্ডের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে নতুন ল্যাপটপের দামও গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিকল্প বাজার ও বিশেষজ্ঞদের মতামত
নতুন পণ্যের লাগামহীন দামের কারণে অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি না থাকা সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক দামে পুরোনো র্যাম বা এসএসডি কিনছেন ক্রেতারা।
প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, মেমোরি চিপের এই আন্তর্জাতিক সংকট আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে। ২০২৮ সালের দিকে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ২০২৯ সাল নাগাদ নতুন কারখানাগুলো উৎপাদনে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাজার সামাল দিতে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতির অধীনে রিকন্ডিশন্ড পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়া এবং অবৈধ বাজার বন্ধে শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।


