টেকভিশন২৪ ডেস্ক: আলোর সাহায্যে মস্তিষ্কের একক স্নায়ুকোষ বা নিউরন নিয়ন্ত্রণের বৈপ্লবিক পদ্ধতি ‘অপটোজেনেটিক্স’ উদ্ভাবন করে ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী। সুইডেনের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি সোমবার এই বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে।
পুরস্কারজয়ী তিন বিজ্ঞানী হলেন মার্কিন গবেষক কার্ল ডেইসেরোথ এবং দুই জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান ও গেওরগ নাগেল। ‘আলোক-সংবেদনশীল আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিক্স’ সংক্রান্ত যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য তাঁদের এই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। বিজয়ীরা যৌথভাবে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) ভাগ করে নেবেন।
এককোষী শ্যাওলা থেকে যুগান্তকারী প্রযুক্তি
অপটোজেনেটিক্স হলো এমন একটি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোনো স্নায়ুকোষের কর্মকাণ্ডকে আলো ফেলে ইচ্ছামতো সক্রিয় কিংবা নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এককোষী শ্যাওলা ‘ক্ল্যামিডোমোনাস’ কীভাবে মাত্র আধ মিলিসেকেন্ডে আলোর প্রতি সাড়া দেয়, তা নিয়ে গবেষণা শুরু করেন পিটার হেগেম্যান। পরবর্তী সময়ে গেওরগ নাগেল এর ওপর ভিত্তি করে আলোক-সংবেদনশীল বিশেষ প্রোটিন ‘চ্যানেলরোডোপসিন-২’ আবিষ্কার করেন। ২০০৩ সালে তাঁরা দেখান যে, মানবকোষেও এই প্রোটিন যুক্ত করে আলোর মাধ্যমে তড়িৎ তরঙ্গ তৈরি করা সম্ভব। এরপর ২০০৫ সালে মার্কিন গবেষক কার্ল ডেইসেরোথ ইঁদুরের স্নায়ুকোষে এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ ঘটিয়ে বিষয়টিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মূলধারায় নিয়ে আসেন।
জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন আশা
মস্তিষ্ক কীভাবে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে এবং নিউরনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখে, তা স্পষ্ট বোঝার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি স্নায়ুবিজ্ঞানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
সিজোফ্রেনিয়া, আলঝেইমার্স, পারকিনসন্স, মৃগীরোগ এবং মাদকের আসক্তির মতো জটিল ও নিরাময়অযোগ্য রোগের কারণ অনুসন্ধানে পরীক্ষাগারে ইঁদুরের মস্তিষ্কে অপটোজেনেটিক্স সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ‘রেটিনাইটিস পিগমেনটোসা’য় আক্রান্ত রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা এবং শ্রবণযন্ত্র উন্নত করার কাজেও এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের আশা, ভবিষ্যতে মানব মস্তিষ্কের জটিল রোগ নিরাময়ে এই উদ্ভাবন মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।


