টেকভিশন২৪ ডেস্ক: রংপুর শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোবাইল টাওয়ারসহ বিভিন্ন উৎসের তড়িৎচৌম্বকীয় বিকিরণ (ইএমএফ রেডিয়েশন) আন্তর্জাতিক নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাটিতে মোবাইল নেটওয়ার্কের সেবার মান (কিউওএস) ও ইন্টারনেট গতির পরীক্ষা চালিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভালো ফল পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একটি কারিগরি দল গত ৮ থেকে ১১ আগস্ট টানা চার দিন রংপুরের বিভিন্ন স্থানে এই জরিপ পরিচালনা করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা, বাজার ও টাওয়ার সংলগ্ন স্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই পরিমাপ করা হয়। পরিমাপকৃত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—গ্রান্ড প্যালেস হোটেল, ক্যান্টনমেন্ট রোড, শাপলা মোড়, আলমনগর, শ্যামলী টেকনিক্যাল কলেজ, রেলওয়ে স্টেশন, তাজহাট বাজার, তাজহাট জমিদারবাড়ি, টাউন হল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটাকশন’ (আইসিএনআইআরপি)-এর নীতিমালা অনুযায়ী তেজস্ক্রিয়তার নিরাপদ সীমা হলো প্রতি মিটারে ৬য় ভোল্ট (৬১ ভি/এম)। বিটিআরসির পরীক্ষায় দেখা যায়, রংপুরের গ্রান্ড প্যালেস হোটেল এলাকায় সর্বোচ্চ মান পাওয়া গেছে ১.৭৯৫ ভোল্ট পার মিটার এবং গড় মান ১.০৮২ ভোল্ট পার মিটার। ক্যান্টনমেন্ট রোডে সর্বোচ্চ ১০.৪৮০ ভোল্ট পার মিটার এবং রেলওয়ে স্টেশনে মাত্র ০.৪৭৪ ভোল্ট পার মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার আর কোথাও এই মাত্রা ১১ ভোল্ট পার মিটারের ওপরে ওঠেনি।
গতি ও সেবার মান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি
রেডিয়েশনের পাশাপাশি নেটওয়ার্কের সেবার মানও পরীক্ষা করেছে বিটিআরসির দলটি। দেখা গেছে, গ্রাহকদের ডেটা ডাউনলোডের গতি (ডাউনলিংক থ্রুপুট) বিটিআরসি নির্ধারিত ১০ এমবিপিএস বেঞ্চমার্কের বিপরীতে পাওয়া গেছে গড়ে ২৩.৩৯ এমবিপিএস। আর আপলোডের গতি (আপলিংক থ্রুপুট) ২ এমবিপিএস লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মিলছে গড়ে ১২.৯৪ এমবিপিএস।
ভয়েস কলের মান বা ‘ভয়েস-এমওএস’-এর ক্ষেত্রে টুজি (2G)-তে নির্ধারিত ৩.৫ বেঞ্চমার্কের জায়গায় গড় মান পাওয়া গেছে ৩.৮৭। তবে ফোরজি (4G) ভয়েসের গড় মান ৩.৪২ এবং ‘ভিওএলটিই’ ভয়েস কলের গড় মান পাওয়া গেছে ৩.০৭।
মতবিনিময় সভা ও সচেতনতার আহ্বান
জরিপের তথ্য তুলে ধরে ১১ আগস্ট রংপুর জেলা প্রশাসনের মিলনায়তনে ‘মোবাইল টাওয়ারের ইএমএফ রেডিয়েশন পরিবীক্ষণ, জনসচেতনতা ও কিউওএস উন্নয়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর ভরসা করতে হবে। অনুমোদিত নিয়ম ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করেই টাওয়ার স্থাপন করা হয়। বিটিআরসির অনুমতি ছাড়া টাওয়ার বসানোর কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হওয়া ভুয়া তথ্য বা ছবি সম্পর্কে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশুদের মোবাইল আসক্তি ও গেমের ওপর নজর রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিটিআরসির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজসহ স্থানীয় শিক্ষক, পুলিশ প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা উপস্থিত ছিলেন।



