টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশি এন্টারপ্রাইজ এবং ক্লাউড অবকাঠামো খাতের পরিধি বাড়াতে ঢাকার গুলশান-২ এলাকায় একটি নতুন অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডেটা সেন্টার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কোলোসিটি লিমিটেড।
ক্রমবর্ধমান এন্টারপ্রাইজ-গ্রেড ডিজিটাল অবকাঠামো, এআই কম্পিউটিং, ক্লাউড সার্ভিস এবং মিশন-ক্রিটিক্যাল কাজের চাহিদা মেটাতে এই ডেটা সেন্টারটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। নতুন এই সুবিধাটি প্রাথমিকভাবে ন্যূনতম ১.০ মেগাওয়াট (MW) আইটি পাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে কাজ শুরু করবে এবং ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই, ২০২৬ থেকে এই নতুন ব্রাঞ্চে গ্রাহকদের অনবোর্ডিং বা সেবা দেওয়া শুরু হবে।
ভবিষ্যতের উপযোগী অবকাঠামো
কোলোসিটির গুলশান ডেটা সেন্টারটি ‘টিয়ার থ্রি’ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। এটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্লাউড সার্ভিস ফার্ম, কনটেন্ট প্রোভাইডার এবং এআই-ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর জন্য উচ্চ প্রাপ্যতা, ব্যাকআপ সিস্টেম, স্থায়িত্ব এবং নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসায়িক সহায়তা নিশ্চিত করবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই ডেটা সেন্টারে যা থাকছে:
৭০টি এআই-রেডি আইটি র্যাক: বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে যা পরবর্তীতে ভবনের অন্যান্য ফ্লোরেও সম্প্রসারণ করা যাবে।
উচ্চ-ঘনত্বের র্যাক সাপোর্ট: প্রতিটি র্যাক ৩.৫ কিলোওয়াট থেকে ১৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত উচ্চ-ঘনত্ব (High-density) সমর্থন করতে সক্ষম।
পাওয়ার সার্কিট: এতে ৩২ অ্যাম্পিয়ার এবং ৬৩ অ্যাম্পিয়ার পাওয়ার সার্কিট ব্যাকআপের ব্যবস্থা রয়েছে।
উন্নত প্রযুক্তির সামঞ্জস্যতা: এটি মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, জিপিইউ ক্লাস্টার, এইচপিসি এবং এন্টারপ্রাইজ ক্লাউড অবকাঠামোর জন্য অপ্টিমাইজড বা বিশেষভাবে তৈরি।
কোলোসিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ব্যবসায়িক পরিমণ্ডলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং জিপিইউ-হেভি অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার যেভাবে বাড়ছে, তা মাথায় রেখেই এই অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যকারিতা দেবে।
গুলশান ডেটা সেন্টারের মূল বৈচিত্র্য ও সুবিধাসমূহ:
ন্যূনতম ১.০ মেগাওয়াট আইটি পাওয়ার সক্ষমতা।
কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক টিয়ার থ্রি স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন।
বিদ্যুৎ ও কুলিং সিস্টেমের জন্য N+1 রিডান্ডেন্ট অবকাঠামো।
হাই-ডেনসিটি জিপিইউ র্যাক সাপোর্ট।
ক্যারিয়ার নিউট্রাল কানেক্টিভিটি।
কোলোসিটির মহাখালী ডেটা সেন্টারের সাথে ১০০ জিবিপিএস রিডান্ডেন্ট নেটওয়ার্ক কানেক্টিভিটি।
বহুস্তর বিশিষ্ট ভৌত ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
২৪ ঘণ্টা সক্রিয় সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার।
নিরবচ্ছিন্নভাবে অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ সুবিধা।
প্রধান কর্পোরেট অফিস এবং ক্যারিয়ার ইকোসিস্টেমের সাথে একদম কম লেটেন্সি বা নেটওয়ার্ক বিলম্বের সংযোগ।
কৌশলগত অবস্থান ও গ্রাহক সুবিধা
গুলশানের মতো ঢাকার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক এলাকায় এই সাইটটি অবস্থিত হওয়ায় বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যাংক, টেলিকম সেবা, ক্লাউড প্রোভাইডার এবং শীর্ষস্থানীয় করপোরেট অফিসগুলো খুব সহজেই এই অবকাঠামোর সুবিধা নিতে পারবে। এই কৌশলগত অবস্থান মূলত নেটওয়ার্ক লেটেন্সি (বিলম্ব) কমিয়ে ডেটা আদান-প্রদান আরও দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করবে।
এই নতুন ডেটা সেন্টারটি মূলত কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রজেক্ট, ক্লাউড সার্ভিস প্রোভাইডার, এআই ও জিপিইউ কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম, স্যাস প্রোভাইডার, কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক, টেলিকম অপারেটর, ই-কমার্স এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি সেবা দেবে।
কোলোসিটি লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস অফিসার মো. আল ফুয়াদ বলেন, “গুলশান ডেটা সেন্টার মূলত বাংলাদেশে বিশ্বমানের ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোলোসিটির ধারাবাহিক অঙ্গীকারেরই একটি প্রতিফলন। এআই-রেডি হাই-ডেনসিটি কোলোকেশন, টিয়ার থ্রি স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন এবং স্কেলেবল ১.০ মেগাওয়াট ক্ষমতার মাধ্যমে আমরা দেশের এন্টারপ্রাইজগুলোকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ডেটা দেশের মাটিতেই নিরাপদ রেখে আত্মবিশ্বাসের সাথে উদ্ভাবন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছি।”


