টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বর্তমানে অনেকে ব্র্যান্ডপিসি বা কমপ্লিট পিসি না কিনে কাস্টম পছন্দ মতো পিসি বিল্ড করার দিকে আগ্রহ বেড়ে চলেছে। তবে কাস্টম পিসি বিল্ড এর ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখতে হয়। সেটা হচ্ছে কি উদ্দেশ্যে পিসিটি বিল্ড করা হবে?
যেমন: অনেকে গেমিং এর জন্য পিসি বিল্ড করে থাকে আবার অনেকে ওয়ার্কস্টেশনের জন্য, আবার অনেকে শুধু সাধারন ইউজের জন্য পিসি বিল্ড করে থাকে। যেহেতু নিজের কাজের চাহিদা মতো পিসি বিল্ড করলে আরামে কাজ করা যায়। তাই একটি কাস্টম পিসি বিল্ড করার জন্য যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভাবে জানা থাকা ভালো
যেসব কম্পোনেন্ট লাগবে:
একটা পরিপূর্ন কাস্টম পিসি বিল্ড করতে প্রাথমিক যেসব কম্পোনেন্ট দরকার হয় সেগুলো হলো:
১.প্রসেসর
২.মাদারবোর্ড
৩.গ্রাফিক্স কার্ড
৪.র্যাম
৫.মনিটর
৬.কুলিং সিস্টেম
৭.পাওয়ার সাপ্লাই
৮.কেসিং
এসব কম্পোনেন্ট ব্যবহার করে একটি প্রাথমিক কাস্টম পিসি বিল্ড করা যায়। উপরোক্ত সবগুলো কম্পোনেন্ট কোন কোন কাজে ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে বর্ণনা নিচে দেওয়ার চেষ্টা করা হলঃ-
প্রসেসর
পিসির যাবতীয় কার্যক্রম প্রসেসরই প্রসেস করে থাকে তাই সকল দিক বিবেচনা করে প্রসেসর বাছাই করতে হবে। একটি প্রসেসরের ক্লক স্পিড,কোরের সংখ্যা, মেগাহার্জ, গিগাহার্জ ইত্যাদি যতো বেশি হবে প্রসেসরের পারফরম্যান্সও তত হাই কোয়ালিটির হবে।সেই অনুযায়ী দামও বেশি হবে। গেমিং এর ক্ষেত্রে Core i5, সাধারণ কাজের ক্ষেত্রে Core i3 আর ভিডিও এডিটিং এর জন্য সবচেয়ে ভালো হবে Core i7অথবা কোর আই-৯ এর প্রসেসর।
মাদারবোর্ড:
পিসির প্রতিটি কাজ মাদারবোর্ডের উপর থেকেই চলে আর এ কারণেই একে “মাদার”-বোর্ড বলা হয়। কিছু জনপ্রিয় মাদারবোর্ড কোম্পানির নাম হচ্ছে – ASUS, AMD, Gigabyte, ASrock ইত্যাদি। এদের মধ্যে বাজেট অনুযায়ী ভালো মানের মাদারবোর্ড কিনে কাস্টম পিসি বিল্ড করা যাবে।
গ্রাফিক্স কার্ড:
একটি গ্রাফিক্স কার্ড ছাড়া গেমিং পিসি অসম্পূর্ণ। তাই এক্ষেত্রে ভালো মানের গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করতে হবে। মাদারবোর্ডের কোয়ালিটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে গ্রাফিক্স কার্ড নির্বাচন করতে হয়। নাহলে সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
র্যাম :
ভালো প্যারফর্ম্যান্স পাওয়ার জন্য প্রসেসর আর গ্রাফিক্স কার্ডের সাথে উপযুক্ত সাইজের র্যাম পিসিতে ব্যবহার করতে হবে। ৪ গিগাবাইটের কম র্যাম পিসিতে ব্যবহার না করাই ভালো। বর্তমানে ৮-৬৪ জিবি র্যাম স্টিক পাওয়া যায় যা গেমিং ও অন্যান্য কাজের জন্য নির্বাচন করা হয়ে থাকে।
মনিটর:
একটি ভালো মনিটর পিসির যাবতীয় কার্যক্রম ভালোভাবে উপস্থাপন করতে পারে। এর কালার , রেজুলেশন,সাইজ সবকিছুর দিকে খেয়াল রেখেই কাস্টম পিসির জন্য মনিটর কেনা উচিত।
পাওয়ার সাপ্লাই ও কুলিং সিস্টেম:
পাওয়ার সাপ্লাই এর ক্ষেত্রে মাদারবোর্ড ও গ্রাফিক্স কার্ড এর রিকুয়ারমেন্ট অনুযায়ী কেনা ভালো।
পিসির গ্রাফিক্স কার্ড ও প্রসেসরে আগে থেকেই কুলিং সিস্টেম দেয়া থাকে তাই নরমাল রেঞ্জ এর কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা ভালো।
কেসিং:
কুলিং সিস্টেম, গ্রাফিক্স কার্ড এর সাইজ ইত্যাদি বিবেচনা করে পিসির জন্য কেসিং কিনতে হবে। এছাড়াও কেসিংয়ে RGB লাইটিং ফিচার এবং অন্যান্য ফিচার ব্যবহার করা যায়।
পরিশেষে,
একটি কাস্টম পিসি বিল্ড করার জন্য সকল পার্টস কেনা হয়ে গেলে এগুলোকে সঠিক ভাবে সেটআপ করতে হবে। পিসি হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা এবং জ্ঞান থাকলে সেটাপের কাজটা নিজেই করে নেয়া যায়। তবে ধারণা কাস্টম পিসি বিল্ড করার ধারণা না থাকলে https://www.bdstall.com/pcbuilder এর পিসি বিল্ডার টুলস ব্যবহার করে একটি কাস্টম পিসির উপকণ ও দাম সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যাবে।


