টেকভিশন২৪ ডেস্ক: গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী শেরাটন হোটেলে আয়োজিত নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহার ঘোষণা করেন।
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে জনপ্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা ও সাধারণ মানুষের মতামত নিয়ে তৈরি করা ইশতেহারে ২৬টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে ‘চলো সবাই একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ইশতেহারে ১০টি মৌলিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে ৫টি হ্যাঁ এবং ৫টি না রয়েছে। হ্যাঁ-এর মধ্যে রয়েছে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। না-এর মধ্যে আছে- দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।
এবারের ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি।
১. অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান লক্ষ্য: আইসিটির মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার
রপ্তানি এবং ২০ লক্ষ কর্মসংস্থান এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি এবং ২০
লক্ষ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করা হবে।
২. সুশাসন এবং পরিষেবা প্রদান: দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে আইসিটি ব্যবহার করা হবে। সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে সকল সরকারি পরিষেবার জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে। সকল পরিষেবার জন্য জন্ম নিবন্ধন এবং ভোটার আইডির বদলে একটি অনন্য (Unique) আইডি চালু করা হবে।
৩. প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং স্থানীয় শিল্প: সরকারি প্রকল্পে দেশীয় সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবনী কেন্দ্র, ইনকিউবেটর, স্টার্টআপ অনুদান এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিল চালু করে একটি দেশব্যাপী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে।
৪. নিরাপত্তা এবং আইনি কাঠামো একটি জাতীয় সাইবার সুরক্ষা নীতি প্রণয়ন, CIRT শক্তিশালীকরণ এবং নীতিগত হ্যাকিং দল গঠন করা হবে। তথ্য গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল অধিকারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের আইন করা হবে।
৫. গ্রাম ও মহল্লায় ব্যক্তি মালিকানায় কিয়স্ক (Kiosk) স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে।
৬. জবাবদিহিতা এবং বিশ্বব্যাপী প্রচার: বিগত সরকারের আইটি খাতে দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের জন্য এবং পাচারকৃত তহবিল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ অডিট কমিটি গঠন করা হবে। আইটি রপ্তানি বিপণনের জন্য ‘টেক কূটনীতিক নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ
ভিশন: সুলভ মূল্যে টেলিকম সেবা
১. টেলিকম বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করা হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ দক্ষতা এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ন্যায় পরিচালনা করে সরকারের রাজস্ব খাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ আয় করতে এবং দেশের সকল স্থানে সুলভ মূল্যে টেলিকম সেবা পৌঁছে দিতে পারে।
২. এই খাতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেটাভিত্তিক ডিসিশন সিস্টেমের মাধ্যমে সকল প্রকার দুর্নীতি এবং অস্বচ্ছ কার্যক্রমকে প্রতিহত করা হবে।
৩. সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ইন্টারনেট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান (আইএসপি), ল্যান্ডলাইন এবং মোবাইল সার্ভিস অপারেটর, স্যাটেলাইট এবং সাবমেরিন সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির লক্ষ্যে সব রকমের পলিসি সাপোর্ট দেওয়া হবে।
৪. সরকারের সকল সেবাসমূহকে ইলেক্ট্রনিক সেবার আওতায় নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা হবে।
৫. টেলিযোগাযোগ, আইসিটি ও কম্পিউটিং ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সম্পদ বিনিয়োগ করবে এবং তরুণদের এআই, মেশিন লার্নিং, আইওটি, সাইবার নিরাপত্তা ইত্যাদি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেবে।



