টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রথম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে স্পেকট্রাম সফটওয়্যার এন্ড কনসালটিং প্রাইভেট লিমিটেড (এসএসসিএল)। সিঙ্গাপুরের ইনফোকম মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (আইএমডিএ)-এর উদ্ভাবিত আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ট্রেড ফ্রেমওয়ার্ক ‘ট্রেডট্রাস্ট’-এর আনুষ্ঠানিক ‘ট্রেডট্রাস্ট-রেডি পার্টনার’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিরাপদ, আন্তঃসংযুক্ত ও কাগজবিহীন ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এই অর্জনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রেডট্রাস্ট ও এর বৈশ্বিক গুরুত্ব
ট্রেডট্রাস্ট হলো এমন একটি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ট্রেড ফ্রেমওয়ার্ক, যার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক নথি অত্যন্ত নিরাপদে ইস্যু, আদান-প্রদান এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়। এই স্বীকৃতি অর্জনের ফলে এসএসসিএল এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল ট্রেড প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ট্রেডট্রাস্ট-রেডি পার্টনার হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পাইলট কাঠামো ও ডিজিটাল বাণিজ্য
বাংলাদেশের ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই অর্জন এসেছে অত্যন্ত সময়োপযোগী এক সময়ে। গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর ১৫ জারি করে অনুমোদিত ট্রেড করিডোরের মাধ্যমে ডকুমেন্টারি কালেকশন ও লেটার অব ক্রেডিট (এলসি)-এর আওতায় বাণিজ্যিক নথির ডিজিটাল প্রক্রিয়াকরণের জন্য একটি পাইলট কাঠামো চালু করেছে। এতে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃসংযোগ, স্বাধীনভাবে নথি যাচাই, তথ্যের গোপনীয়তা এবং ইলেকট্রনিক বাণিজ্যিক নথির আইনগত গ্রহণযোগ্যতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংকিং ও ট্রেড ফাইন্যান্সের ডিজিটাল রূপান্তরে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ফলেই মূলত এসএসসিএল এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডকুমেন্ট ইন্টেলিজেন্স ও এন্টারপ্রাইজ অটোমেশনের পাশাপাশি ‘গ্রিনএলসি’ এবং ‘স্পেকট্রাটেডের’ মতো আধুনিক ডিজিটাল ট্রেড সলিউশন তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান উদ্যোগের অনেক আগেই এসএসসিএল একটি ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল ট্রেড প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দেশের ১০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংককে নিয়ে এলসি ও ট্রেড ডকুমেন্ট প্রক্রিয়ার ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে কাজ শুরু করেছিল।
বাণিজ্য ব্যয় হ্রাস ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা
ডিজিটাল ও ইন্টারঅপারেবল ট্রেড কেবল কাগজের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক নথি ব্যবহারের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ক্রস-বর্ডার ট্রেডিং বা সীমান্ত পারাপারের বাণিজ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্বস্ত বাণিজ্যিক নথি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে আদান-প্রদান করা যায়। বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই রূপান্তরের ফলে বাণিজ্য ব্যয় কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
এসএসসিএলের এই স্বীকৃতি তাই কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের বিকাশমান ডিজিটাল ট্রেড ইকোসিস্টেমে প্রতিষ্ঠানটির আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিশ্বস্ত ডিজিটাল বাণিজ্য ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পথও আরও সুগম করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


