নিজস্ব প্রতিবেদক: সাধারণ যাত্রীদের জন্য অনলাইনে ট্রেনের টিকিট উন্মুক্ত করার ১ থেকে ৫ দিন আগেই তা অবরুদ্ধ (ব্লক) করে রাখার সুযোগ রয়েছে। আর ই-টিকিটিং ব্যবস্থার এই সংবেদনশীল অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ডের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেবা প্রদানকারী বেসরকারি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান ‘সহজ ডটকম’-এর কর্মীদের হাতে।
পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক আইটি অডিটে (তথ্যপ্রযুক্তি নিরীক্ষা) ই-টিকিটিং ব্যবস্থার এই চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও গাফিলতির তথ্য উঠে এসেছে। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তির শর্ত ভেঙে ভেন্ডর কর্মীদের সরাসরি টিকিট পরিচালনায় যুক্ত রাখার ফলেই মূলত টিকিট কালোবাজারির বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চুক্তির শর্ত ভেঙে ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট
রেলের টিকিট কাটায় সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনলাইন টিকিট বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয় সহজ ডটকমকে। চুক্তি অনুযায়ী, সহজের দায়িত্ব ছিল কেবল হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ করা। টিকিট বিক্রি, আসন সংরক্ষণ, কোটা সমন্বয় কিংবা টিকিট অবরুদ্ধ (ব্লক) ও মুক্ত (রিলিজ) করার মতো প্রশাসনিক কাজে তাদের যুক্ত থাকার কথা নয়।
তবে অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চুক্তির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন স্টেশনের প্রায় ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন সহজের কর্মীরা। উদাহরণ হিসেবে, চট্টগ্রাম ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ই-টিকিটিং ড্যাশবোর্ডের সক্রিয় ব্যবহারকারী (ইউজার) তালিকায় সহজের কর্মীদেরই আধিপত্য দেখা গেছে। সিলেট স্টেশনে দায়িত্বরত ভেন্ডর প্রতিনিধির ড্যাশবোর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সারা দেশের যেকোনো রুটের টিকিট সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিক্রির উদ্দেশ্যে অনলাইনে ছাড়ার ১ থেকে ৫ দিন আগেই তা ব্লক করার সুযোগ রয়েছে।
পাঁচ অর্থবছরের অডিটে কালোবাজারির ইঙ্গিত
পরিবহন অডিট অধিদপ্তর ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ই-টিকিটিং কার্যক্রমের ওপর এই আইটি নিরীক্ষা পরিচালনা করে। অডিট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সার্বিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ভেন্ডরের হাতে থাকায় পুরোনো কালোবাজারিই ডিজিটাল মাধ্যমে নতুন রূপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘নলেজ হাব ইনস্টিটিউট’-এর প্রেসিডেন্ট খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ই-টিকিটিং ব্যবস্থাটি পুরোনো সেই কালোবাজারি ব্যবস্থারই একধরনের রূপান্তর হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। টিকিট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নিজস্ব প্রযুক্তিদক্ষ লোকবল দিয়ে একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা (ইন্টারনাল মনিটরিং) গড়ে তোলা জরুরি।’
যোগাযোগ এড়িয়ে গেছে ‘সহজ’
ই-টিকিটিং ব্যবস্থার এসব অনিয়ম ও অডিট প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে সহজ ডটকমের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কর্নেল (অব.) আমিনুল হক কোনো কথা বলতে রাজি হননি। পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট


