টেকভিশন২৪ ডেস্ক: এক দশকের মধ্যে অ্যাপলের সবচেয়ে উদ্ভাবনী ডিভাইস হিসেবে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে তাদের প্রথম ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’। ৫.৪ ইঞ্চির বাইরের ওলেড পর্দা এবং ভেতরের ৭.৬ ইঞ্চির নমনীয় ওলেড ডিসপ্লে সমৃদ্ধ ডিভাইসটি ব্যবহারের প্রথম অভিজ্ঞতায় বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি মাধ্যম এনগ্যাজেটের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এর অনন্য নির্মাণশৈলী ও সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনের চিত্র।
ডিজাইন ও নির্মাণশৈলী
টাইটানিয়াম ফ্রেম এবং আইপি৬৮ ওয়াটার ও ডাস্ট প্রতিরোধক ক্ষমতার এই ফোনটির চারপাশের গোলাকার প্রান্ত ডিভাইসটি খোলার কাজটি সহজ করে তোলে। এটি ভাঁজ করা অবস্থায় ১১.৩ মিলিমিটার পুরু এবং ওজন ২৫৪ গ্রাম, যা স্যামসাং গ্যালাক্সি জেন ফোল্ড ৮-এর চেয়ে কিছুটা ভারী। তবে বাইরের স্ক্রিন থেকে ভেতরের মূল ডিসপ্লেতে রূপান্তরের সময় প্রিমিয়াম অ্যানিমেশন ট্রানজিশন ব্যবহারকারীদের দারুণ এক অভিজ্ঞতা দেবে।
আন্ডার-ডিসপ্লে ক্যামেরা ও আধুনিক ফিচার
আইফোন ডুওর ভেতরের মূল ডিসপ্লেতে রয়েছে বিশেষ ম্যাট ন্যানো-টেক্সচার কোটিং, যা অপ্রয়োজনীয় আলোর প্রতিফলন কমায় এবং পর্দার মাঝখানের ভাঁজটি (ক্রিজ) ঢেকে রাখতে সাহায্য করে। ভেতরের ফেসটাইম ক্যামেরায় যুক্ত করা হয়েছে আন্ডার-ডিসপ্লে সেন্সর প্রযুক্তি, যা সচল না থাকলে সহজে চোখে পড়ে না।
সাইড পাওয়ার বোতামেই রাখা হয়েছে টাচ আইডি সেন্সর। ফোনটি আংশিক বাঁকা করে টেবিলটপ কিংবা টেন্ট মোডে রেখে ডিজিটাল ঘড়ি বা ক্যালেন্ডার হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব। এ ছাড়া এর উভয় স্ক্রিনেই অ্যাপল পেন্সিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

ক্যামেরা ও আইপ্যাড-সদৃশ সফটওয়্যার
ফোনটির পেছনে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল ফিউশন ক্যামেরা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা। যদিও এতে আলাদা জুম লেন্স নেই, তবে পেছনের প্রশস্ত ক্যামেরা মডিউলটি টেবিলের ওপর ফোন রাখার পর কাঁপাকাঁপি বা দোলাচল রোধ করে। আইপ্যাডওএস-এর মতো মাল্টিটাস্কিং, স্প্লিট-স্ক্রিন, ফাইল ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ এবং জোড়া অ্যাপ (App Pairs) চালুর সুবিধা সফটওয়্যার অভিজ্ঞতাকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
১,৯৯৯ ডলার শুরুর মূল্যের এই আইফোন ডুওর আগাম বুকিং শুরু হবে আগামী ১৬ অক্টোবর এবং বিশ্ববাজারে পাওয়া যাবে ২৩ অক্টোবর থেকে।
সূত্র: এনগ্যাজেট


