রবিবার, আগস্ট ৯, ২০২৬
29.3 C
Dhaka

খুচরা বাজার ব্যবস্থাপনায় ইউনিলিভারের এআই প্ল্যাটফর্ম আইকিউ নেক্সাসের সাফল্য

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ নির্ভর করে প্রায় ১৪ লক্ষ ছোট ফাস্ট মুভিং কনসিউমার গুডস (এফএমসিজি) দোকানের ওপর। প্রতিদিন কোটি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৌঁছে যায়। কিন্তু এই খুচরা বাজারটি অত্যন্ত বিচ্ছিন্ন এবং অঞ্চলভেদে পণ্যের প্রাপ্যতা ও বৈচিত্র্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। অনেক গ্রামীণ এলাকায় এখনও পণ্যের সঠিক বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কোথাও সাবানের বিক্রি বেশি, কোথাও শ্যাম্পু বা টুথপেস্টের চাহিদা বেশি।

এই বৈচিত্র্যের মধ্যে সঠিক পরিকল্পনা করা সবসময় সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞতা ও অনুমানের ভিত্তিতে। কিন্তু দ্রুত বদলে যাওয়া বাজার বাস্তবতায় এই পদ্ধতি সবসময় কার্যকর হয় না। এই অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্য ব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের আইকিউ নেক্সাস নামের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রিটেইল এক্সিকিউশন প্ল্যাটফর্ম। এর লক্ষ্য হলো সঠিক পণ্য সঠিক দোকানে সঠিক সময়ে পৌঁছে দেওয়া।

নিউরাল নেটওয়ার্কভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই প্ল্যাটফর্ম প্রতিদিনের বিক্রয় তথ্য, আউটলেট পরিদর্শনের তথ্য এবং বাজারের আচরণ বিশ্লেষণ করে। একই ধরনের আউটলেটগুলোর বিক্রয় আচরণের তুলনামূলক বিশ্লেষণও এতে ব্যবহৃত হয়। সহজভাবে বললে, এটি নিজে নিজেই শিখতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোন এলাকায় কোন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে বা কমছে তা বুঝে নেয়। ফলে সিদ্ধান্ত হয় তাৎক্ষণিক তথ্যের ভিত্তিতে, অনুমানের ওপর নয়।

স্পেনের সুপারমার্কেটগুলোর ওপর পরিচালিত দুই বছরব্যাপী অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পণ্যের সংখ্যা বেশি হলেই বিক্রি বাড়ে না; বরং সঠিক পণ্যের বৈজ্ঞানিক সমন্বয়ই চাহিদা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে কার্যকর। যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রেতা টেসকোর পণ্য তালিকা পুনর্বিন্যাসের অভিজ্ঞতাও একই বাস্তবতাকে তুলে ধরে। তবে বৈশ্বিক এফএমসিজি শিল্পেও পণ্যের বৈজ্ঞানিক সমন্বয় নির্ধারণে উন্নত বিশ্লেষণ সক্ষমতা এখনও খুব সীমিত।

দেশব্যাপী চালুর আগে আইকিউ নেক্সাস পাইলট হিসেবে প্রয়োগ করা হয় সৈয়দপুর, মিরপুর, চাঁদপুর, খুলনা ও হালিশহর এলাকায়। পরীক্ষামূলক ফলাফল ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। নন নেক্সাস এলাকার তুলনায় এসব অঞ্চলে মোট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭১ শতাংশ, যেখানে অন্য এলাকায় ছিল ৬৫ শতাংশ। পণ্যের বৈচিত্র্যে ৬ শতাংশ এবং সরবরাহের গভীরতায় ৪ শতাংশ উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ সঠিক পণ্য সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর দক্ষতা স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

রিটেইলারদের দৃষ্টিকোণ থেকে পরিবর্তনটি আরও স্পষ্ট। একটি ছোট দোকানের জন্য অতিরিক্ত মজুত মানে মূলধন আটকে যাওয়া। আবার ঘাটতি মানে বিক্রয় হারানো। আইকিউ নেক্সাস দোকানভিত্তিক বিক্রয় প্রবণতা বিশ্লেষণ করে অর্ডার পরিকল্পনায় সহায়তা করে, যা নগদ প্রবাহকে স্থিতিশীল রাখে। অনেক খুচরা বিক্রেতা এখন দেখছেন, অপ্রয়োজনীয় স্টক কমছে এবং বিক্রয় পূর্বাভাস সম্পর্কে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সময় কিছু দোকানে এর প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। উদাহরণ হিসেবে গাজী স্টোর নামের একটি আউটলেটে পণ্যের বৈচিত্র্য প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর ফলে মোট বিক্রি প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মাঠপর্যায়ের বিক্রয় দলের কাজেও পরিবর্তন এসেছে। বিক্রয় দলকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা এই সুপারিশগুলোর যুক্তি রিটেইলারদের কাছে সহজভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। আগে যেখানে ফিল্ড ভিজিট মূলত অর্ডার সংগ্রহকেন্দ্রিক ছিল, এখন তা পরিণত হয়েছে পরামর্শভিত্তিক আলোচনায়। তথ্য হাতে থাকায় তারা জানেন কোন দোকানে কোন পণ্য অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।

নতুন পণ্য দ্রুত সঠিক স্থানে পৌঁছায় এবং প্রচারণা হয় স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী। আইকিউ নেক্সাসের সুপারিশগুলো ইউনিলিভারের ডিজিটাল অর্ডারিং অ্যাপ ইউকার্টের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে রিটেইলাররা অর্ডার দেওয়ার সময়ই সহজভাবে দেখতে পারেন কোন পণ্য তাদের দোকানের জন্য উপযোগী।

ভবিষ্যতের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই প্ল্যাটফর্ম শুধু বর্তমান বিক্রয় বিশ্লেষণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মৌসুমি প্রবণতা, স্থানীয় উৎসব, এমনকি আবহাওয়াভিত্তিক চাহিদা বিশ্লেষণের দিকেও এর ব্যবহার বিস্তৃত হতে পারে। বাংলাদেশের খুচরা বাজার ঐতিহ্যগতভাবে সম্পর্কনির্ভর। সেই কাঠামোর সঙ্গে যখন তথ্যভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত হয়, তখন তৈরি হয় আরও পূর্বানুমানযোগ্য ও স্থিতিশীল বাজারব্যবস্থা। ইউনিলিভার বাংলাদেশের জন্য এটি তাই শুধু একটি প্রযুক্তি উদ্যোগ নয়, বরং ভবিষ্যতের খুচরা বাজার ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সক্ষমতা। লক্ষ্য হলো এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল খুচরা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে ছোট গ্রামীণ দোকান থেকে বড় শহুরে আউটলেট — সবাই একই ধরনের তথ্যভিত্তিক অন্তর্দৃষ্টি ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে। এতে শুধু পণ্যের প্রাপ্যতাই বাড়বে না, বরং খুচরা ব্যবসার স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিও আরও শক্তিশালী হবে।

এই সপ্তাহের জনপ্রিয়

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সিআইআরএস ও এনআরএস উদ্বোধন

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন জাতীয়...

​জাপানি বাইকের প্রকৃত পরিচয় কী?

অ‌টো‌মোবাইল প্রতি‌বেদক: বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের বাজারে জাপানি ব্র্যান্ডের বাইক মানেই...

জলবায়ু পর্যবেক্ষণে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেল বিএসসিএল

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহারে বড়...

ব্যবসায়ে অবদান রাখা ওয়ালটন কর্মকর্তারা পুরস্কৃত

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: গত বছর প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় ও মুনাফার ধারাবাহিক...

উল্কাসেমি’র আয়োজনে রেকর্ড ১০৬টি দলের অংশগ্রহণে ‘ভিএলএসআইথন ৩.০

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: শুরু হলো দেশের সবচেয়ে বড় ভিএলএসআই প্রতিযোগিতা...

সর্বশেষ

ইউআইটিএসে বিসিসির আইটিইই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)-এর...

স্মার্টফোন ডিসপ্লেতে নতুন যুগ: ০ মিমি বর্ডারলেস কনসেপ্ট

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: এআইচালিত গ্লোবাল প্রযুক্তি ব্র্যান্ড টেকনো তাদের নতুন...

যাত্রা শুরু করলো ‘জিরাইল সোসাইটি’,প্রথম আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: “ঐতিহ্য - ঐক্য - সহযোগিতা - উন্নয়ন”...

উল্কাসেমি’র আয়োজনে রেকর্ড ১০৬টি দলের অংশগ্রহণে ‘ভিএলএসআইথন ৩.০

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: শুরু হলো দেশের সবচেয়ে বড় ভিএলএসআই প্রতিযোগিতা...

সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে সিআইআরএস ও এনআরএস উদ্বোধন

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীন জাতীয়...

গ্রামীণফোন ও ডেকো ফুডসের কৌশগত পার্টনারশিপ

টেকভিশন২৪ ডেস্ক: দেশের শীর্ষ টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন...

একই সম্পর্কিত পোস্ট

জনপ্রিয় ক্যাটাগরি