টেকভিশন২৪ ডেস্ক: শুরু হলো দেশের সবচেয়ে বড় ভিএলএসআই প্রতিযোগিতা ‘ভিএলএসআইথন ৩.০’। শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার সূচনা ঘোষণা করা হয়।
এবারের আসরে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছে ভিএলএসআইথন। দেশের ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ১০৬টি দলের প্রায় ২১০ জন প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছেন, যা এইদেশের ভিএলএসআই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ।
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন ডোমেইন “প্লেস অ্যান্ড রাউট (পিএনআর)”। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে বাছাই পর্ব, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, কেস বিশ্লেষণ ও সমাধান, নিজস্ব আইডিয়া উপস্থাপন এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচিত সেরা দলগুলো চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেবে। সেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানার-আপ এবং দ্বিতীয় রানার-আপ দল নির্বাচিত হবে।
বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের অগ্রদূত ‘উল্কাসেমি’র আয়োজনে, উল্কাসেমি ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ইউভিটিআই)-এর সাথে যৌথভাবে এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর সহায়তায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভিএলএসআইথন ৩.০। দেশের বৃহত্তম চিপ ডিজাইন প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এআইইউবির উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উল্কাসেমির সিইও ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উল্কাসেমির চেয়ারম্যান ডা. আরিফা চৌধুরী রহমান, এআইইউবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার মাসুদ রিজভী, পিসি হেল্পলাইন বিডির প্রতিষ্ঠাতা অনন্য জামানসহ আরো অনেকে।
এ বিষয়ে উল্কাসেমির সিইও এবং প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান বলেন, “ভিএলএসআইথনের তৃতীয় আসরে ১০৬টি দলের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে বাংলাদেশের তরুণরা আগামী দিনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে। প্রতিটি আসরে আমরা তরুণ প্রকৌশলীদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে অসাধারণ সম্ভাবনা দেখেছি। এবারের রেকর্ড অংশগ্রহণ সেই আগ্রহের ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
“এবারই প্রথমবারের মতো আমরা প্লেস অ্যান্ড রাউট (পিএনআর) ক্যাটাগরি যুক্ত করেছি, যাতে শিক্ষার্থীরা চিপ ডিজাইনের ব্যাক-এন্ড প্রক্রিয়ার বাস্তবধর্মী সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তি হলো সেমিকন্ডাক্টর চিপ। তাই এই খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এখন সময়ের অন্যতম বড় প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ, পরিশ্রমী এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে সক্ষম হতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা ভিএলএসআইথনের আয়োজন করে আসছি। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও নীতিগত সহায়তা পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাত একটি মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হতে পারে, আর এই তরুণ প্রকৌশলীরাই হবেন সেই যাত্রার মূল চালিকাশক্তি।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এআইইউবির উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, “একসময় ইইই ও সিএসই বিভাগের খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীই ভিএলএসআই খাতে ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিল। আজ ভিএলএসআইথনে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ দেখে আমি সত্যিই আনন্দিত ও আশাবাদী। এটি প্রমাণ করে, আমাদের তরুণদের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। আগামীতে দেশেই এ খাতে দক্ষতা অর্জন ও ক্যারিয়ার গড়ার আরও বড় সুযোগ তৈরি হবে। শিক্ষার্থীদের সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এবং ভবিষ্যৎ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভিএলএসআইথনের মতো বৃহৎ আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসি বিল্ডার্স বাংলাদেশের অনন্য জামান বলেন, “আমি তাইওয়ানে গিয়ে জানতে পারি বাংলাদেশে উল্কাসেমি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন করে এবং তাঁরা টিএসএমসির ডিসিএ পার্টনার। দেশে বসে দেশের ইঞ্জিনিয়াররা এতো বড় সেক্টরে অবদান রাখছে এটা আমাদের জন্য অনেক গৌরবের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দিনব্যাপী ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয় যেখানে থিওরির পাশাপাশি ইডিএ ট্যুলসে দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। আগামী ১৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে মূল প্রতিযোগিতা। সেখান থেকে নির্বাচিত দলগুলো কেস বিশ্লেষণ ও সমাধান এবং নিজস্ব আইডিয়া উপস্থাপনের সুযোগ পাবে। ভিএলএসআইথন ৩.০-এর বিজয়ী দলগুলোর জন্য মোট দুই লাখ টাকা মূল্যমানের পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে।


