টেকভিশন২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা ও উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো ‘সেন্টার অব রিসার্চ এক্সিলেন্স ইন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি’—সংক্ষেপে ক্রেস্ট (CREST)-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নেতৃত্বে এবং দেশীয় অংশীদারদের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই উদ্যোগ দেশের প্রযুক্তি-নির্ভর ভবিষ্যৎ গঠনের পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সেমিকন্ডাক্টর ইনোভেশন অ্যান্ড কারিকুলাম সাপোর্ট (বেসিকস) এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত ক্রেস্ট, বায়োটেক, ইলেকট্রনিক্স, এআই অ্যান্ড রোবটিক্স (বিয়ার) সামিটের ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করবে। এর লক্ষ্য—বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের “সিলিকন রিভার” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, যেখানে বৈশ্বিক সহযোগিতা ও দেশীয় মেধা মিলিত হবে উদ্ভাবনের মেলবন্ধনে।
নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড ও দুইটি আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ক্রেস্টের প্রথম বছর শুরু হচ্ছে ৯টি গ্র্যাজুয়েট ফেলোশিপ কর্মসূচি দিয়ে। এতে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, ইস্ট ওয়েস্ট ও ইইউআইইউর ৯ জন শিক্ষক মেন্টর হিসেবে যুক্ত থাকবেন। ফেলোশিপ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ইউসি বারকেলি ও পুরডিউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন।
এছাড়া, বুয়েট, এআইইউবি, ডিইউ, আইইউটি, এমআইএসটি ও ইউআইইউ—এই ছয়টি জাতীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১০০ জন পেশাদারকে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে এমআইএসটি ও বিএসআইএ যৌথভাবে গড়ে তুলছে একটি ভার্চুয়াল ইনোভেশন হাব, যা গবেষণা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও নেটওয়ার্কিংয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ক্রেস্টের গবেষণা কাজের মূল ক্ষেত্র হিসেবে থাকবে লো-পাওয়ার ডিভাইস ডিজাইন, এআই-কেন্দ্রিক সার্কিট, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং, অটোমোটিভ অ্যাপ্লিকেশনের জন্য রির্যাম, এবং সিলিকন ফোটোনিক্স।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবু বরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামানসহ দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) সভাপতি এম এ জব্বার বলেন, “ক্রেস্ট বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এক রূপান্তরমূলক যুগের সূচনা করেছে। আমরা এখন শুধু বৈশ্বিক ট্রিলিয়ন-ডলারের ইকোসিস্টেমে অংশগ্রহণের সুযোগই পাচ্ছি না, বরং উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করছি।”
তিনি আরও বলেন, “যাঁরা এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের প্রতি আমরা গভীর কৃতজ্ঞ। বিএসআইএ এই অগ্রযাত্রার অংশ হতে পেরে গর্বিত এবং ক্রেস্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


