মাস্টারকার্ড প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে আরবিআই

ভারতে মাস্টারকার্ড প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে আরবিআই ।

টেকভিশন২৪ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই) অনির্দিষ্টকালের জন্য মাস্টারকার্ড প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। তথ্য সংরক্ষণ নীতিমালা লঙ্ঘনের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

এক বিবৃতিতে আরবিআই বলেছে যে, লেনদেন পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ভারতীয়দের পেমেন্ট ডাটা সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু ২০০১ সাল থেকে তথ্য সংরক্ষণের এ নীতিমালা মানা হচ্ছে না।

পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটি নির্দেশনা গুলো মেনে চলেনি। এ জন্য নতুন করে ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে।

মাস্টারকার্ডের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, আরবিআই এর এমন সিদ্ধান্তে তারা হতাশ এবং এও বলে ২০১৩ সাল থেকে তারা নিয়ম মানার জন্য নিয়মিত আপডেট সরবরাহ করেছে।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “তাদের উদ্বেগ দূর করতে প্রয়োজনীয় যে কোন বিবরণী দিতে আমরা তাদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবো।”

ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস এবং ডাইনার্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল নিষিদ্ধ করার তিন মাসের মধ্যে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে আমেরিকান এক্সপ্রেসের তুলনায় মাস্টারকার্ড এবং ভিসা ভারতের অনেক ব্যাংকের সাথে অংশীদারিত্ব করছে যা সংস্থা গুলোর অর্থ প্রদানের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে কার্ড সরবরাহ করে।

২০১৯ সালে মাস্টারকার্ড বলেছিলেন যে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের আগে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছাড়াও পরবর্তী পাঁচ বছরে ১বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ঘোষণা দেওয়া হলেও ভারতে এটি অনিশ্চিত ছিলো।

একজন আর্থিক সেবা পরামর্শদাতা আশ্বিন পারেক বলেছিলেন, “এটি ক্রেডিট কার্ডগুলোতে একটি বড় শূন্যতা ফেলেছে এবং এটি ভিসার জন্য ভালো সুযোগ হিসেবে আসতে পারে, ব্যাংকগুলোকে আবারও দর কষাকষি করা শুরু করতে হবে যা মাস্টারকার্ডের জন্য একটি আঘাত।”

আরবিআই আরো জানিয়েছে, বর্তমানে মাস্টারকার্ড ব্যবহারকারীদের উপর এটির প্রভাব পরবে না এবং সংস্থাটি যাতে এ বিষয়ে গ্রাহকদের পরামর্শ দেয়।

ইউএস ভিত্তিক পেমেন্ট সার্ভিস সরবরাহকারীরা ২০১৮ সালের নির্দেশের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক তদবির করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভারতে তাদের ব্যবসা করার ব্যয় আরো বাড়িয়ে তুলবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সমথর্ন দেয়নি।

এই আদেশ এসেছে যখন কিনা মাস্টারকার্ড এবং ভিসার মতো সংস্থাগুলো দেশীয় পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সাথে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন যা প্রচার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে মাস্টারকার্ড মার্কিন সরকারকে বলেছিলো যে নয়াদিল্লির সুরক্ষাবাদী নীতিগুলো বিদেশি অর্থ প্রদান সংস্থাগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। টিএইচ/১৭জুলাই/রয়টার্স

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন